পহেলা বৈশাখ জাতিসত্তা ও সংস্কৃতির অনন্য প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী | চ্যানেল আই অনলাইন

পহেলা বৈশাখ জাতিসত্তা ও সংস্কৃতির অনন্য প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী | চ্যানেল আই অনলাইন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলা নববর্ষ ১৪৩১-কে স্বাগত জানিয়ে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সব বাংলাভাষী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

এক বাণীতে তিনি বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন; যা আমাদের জাতিসত্তা, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই দিনটি নতুনের আহ্বান নিয়ে ফিরে আসে এবং পুরোনো জীর্ণতা ও গ্লানি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পহেলা বৈশাখের সঙ্গে এ অঞ্চলের কৃষি, প্রকৃতি ও কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগেও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কৃষক তার ফসল উৎপাদনের সময় নির্ধারণ করেন। বৈশাখী মেলা, শোভাযাত্রা ও হালখাতার মতো আয়োজন আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বহুমাত্রিক সৌন্দর্য তুলে ধরে এবং জাতীয় ঐক্যকে সুদৃঢ় করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনের অবসানের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে। দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই সরকার দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।’

নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এরইমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিবসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচিও চালু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষক, কৃষি ও কৃষি অর্থনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন থেকেই কৃষক কার্ড কর্মসূচি শুরু হয়েছে।’ এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে দেশের কৃষি ও কৃষি অর্থনীতিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের অন্তর্নিহিত সহনশীলতা, উদারতা ও সম্প্রীতির চর্চা গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বহুমতের সহাবস্থানকে সুদৃঢ় করবে।

বিশ্বের চলমান সংকট ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে শান্তি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নববর্ষে সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণের পথে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করা উচিত।’

নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে অতীতের সব হতাশা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নববর্ষ সবার জীবনে বয়ে আনুক সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি।’

Scroll to Top