ভারতের পশ্চিমবঙ্গ-এ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) ৭ জেলায় ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই দফায় রাজ্যের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের ভাগ্য নির্ধারণ হতে যাচ্ছে।
এই দফার সবচেয়ে আলোচিত লড়াই মমতা ব্যানার্জি ও শুভেন্দু অধিকারী-এর মধ্যে। কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রে মুখোমুখি হয়েছেন তারা। নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুর থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শুভেন্দু। এছাড়া রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী—শশী পাঁজা, ফিরহাদ হাকিম ও অরূপ বিশ্বাস—এই দফায় নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছেন।

২৯৪ আসনের এই বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল জানা যাবে ৪ মে দুপুরের পর থেকে। এর আগে ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় দফায় প্রায় ৩ কোটি ২২ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে ১০০ বছরের বেশি বয়সী ভোটার রয়েছেন ৩ হাজার ২৪৩ জন, যাদের ভোটগ্রহণে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ।
প্রচার শেষ হয়েছে সোমবার সন্ধ্যায়। এখন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ও বিরোধী ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি), পাশাপাশি ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) ও ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস—সব দলই ফলাফল নিয়ে নিজ নিজ বিশ্লেষণে ব্যস্ত।
প্রথম দফায় ৯৩ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। দ্বিতীয় দফায়ও একই ধরনের ভোটার উপস্থিতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। ফলাফল নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি করছে বড় দুই দল। তৃণমূলের দাবি, তারা ১০০-এর বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে এবং দ্বিতীয় দফায়ও শক্ত অবস্থানে থাকবে। অন্যদিকে বিজেপির অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণে ১৬০ থেকে ১৭০ আসন জয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
এদিকে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নতুন করে আরও ভোটার যুক্ত হয়েছে। প্রায় ২৭ লাখ নাম বাদ পড়ার ঘটনায় ট্রাইব্যুনালে আপিল করা হলে প্রথম দফায় ১৩৯ জনের নাম অন্তর্ভুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। মঙ্গলবার প্রকাশিত দ্বিতীয় দফার সম্পূরক তালিকায় আরও ১ হাজার ৪৬৮ জনের নাম যুক্ত হয়েছে, যারা আজ ভোট দিতে পারবেন।
সব মিলিয়ে, দ্বিতীয় দফার ভোটের হার ও ভোটার উপস্থিতিই অনেকাংশে নির্ধারণ করবে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।




