পর্যাপ্ত সক্ষমতা সত্ত্বেও কেন চাহিদামাফিক বিদ্যুৎ মিলছে না? সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য – DesheBideshe

পর্যাপ্ত সক্ষমতা সত্ত্বেও কেন চাহিদামাফিক বিদ্যুৎ মিলছে না? সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য – DesheBideshe


পর্যাপ্ত সক্ষমতা সত্ত্বেও কেন চাহিদামাফিক বিদ্যুৎ মিলছে না? সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য – DesheBideshe

ঢাকা, ১০ অক্টোবর – দেশে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি সংকট, বকেয়া বিল পরিশোধে জটিলতাসহ নানা অব্যবস্থাপনার কারণে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। বর্তমান বিদ্যুৎ খাতের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং পুরো ব্যবস্থাপনা আরও গতিশীল করার তাগিদ দিয়েছে কমিটি।

সংসদীয় কমিটির প্রথম বৈঠকের মূল চিত্র

শনিবার (১০ অক্টোবর) সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির সভাপতি মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুর সভাপতিত্বে বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম, বাজেট বরাদ্দ এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে অংশ নেন কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, রফিকুল ইসলাম হিলালী, এস.এম. জাহাঙ্গীর হোসেন, নায়াব ইউসুফ আহমেদ, মমতাজ আলো, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং মো. আবুল হাসনাত।

উৎপাদন সক্ষমতা বনাম বাস্তব চিত্র

বৈঠকে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের বর্তমান প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা হয়:

গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ: মোট সক্ষমতা ১২,০২২ মেগাওয়াট হলেও বাস্তবে উৎপাদিত হচ্ছে মাত্র ৪,০০০ থেকে ৫,০০০ মেগাওয়াট।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ: ৬,৯২৭ মেগাওয়াট সক্ষমতার বিপরীতে প্রকৃত উৎপাদন হচ্ছে ৫,০০০ থেকে ৬,০০০ মেগাওয়াট।

তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ: ৬,৪০৯ মেগাওয়াট সক্ষমতার মধ্যে উৎপাদিত হচ্ছে মাত্র ২,৫০০ থেকে ৩,০০০ মেগাওয়াট।

উন্নয়ন প্রকল্প ও সোলার পাওয়ার নীতি

এডিবি প্রকল্প: বৈঠকে জানানো হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিবি) বিদ্যুৎ বিভাগের অধীনে মোট ৪১টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এর জন্য ১০,৬৫৩ কোটি টাকার প্রকল্প সহায়তা, ৪,০৭১ কোটি ৩৯ লাখ টাকার জিওবি (GOB) এবং সংস্থার নিজস্ব ৩,৩৮১ কোটি ৮০ লাখ টাকাায়ন করা হচ্ছে।

ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ (রুফটপ সোলার): নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিটি। আগামী ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যারা ছাদভিত্তিক সৌর ব্যবস্থা (Rooftop Solar) স্থাপন করবেন, তারা ২০৩০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গ্রিডে সরবরাহ করা উদ্বৃত্ত বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটে ১০.৫০ টাকা হারে মূল্য পাবেন।

কমিটির সুপারিশ: বর্তমান গ্রিডে রুফটপ সোলার প্যানেল থেকে ঠিক কী পরিমাণ বিদ্যুৎ যুক্ত হচ্ছে, তার সঠিক ডেটা বা তথ্য আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কিছু প্রশ্ন সংবলিত লিখিত পেপার সরবরাহ করা হয়েছে, যার উত্তর পরবর্তী বৈঠকে পেশ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এনএন/ ১০ অক্টোবর ২০২৬

Scroll to Top