পর্তুগালের আজ ৫২ তম স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র দিবস | চ্যানেল আই অনলাইন

পর্তুগালের আজ ৫২ তম স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র দিবস | চ্যানেল আই অনলাইন

আজ ২৫শে এপ্রিল, পর্তুগালের ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল দিন। ঠিক ৫২ বছর আগে ১৯৭৪ সালের এই দিনে, পর্তুগিজ সামরিক বাহিনীর এক দুঃসাহসী ও রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অবসান ঘটেছিল দীর্ঘ ৪৮ বছরের একনায়কতান্ত্রিক এস্তাদো নোভো শাসনের।

আজকের এই ৫২তম স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র দিবসে লিসবনের রাজপথ থেকে শুরু করে পর্তুগালের প্রতিটি প্রান্ত সেজেছে উৎসবের সাজে। সাধারণ মানুষের হাতে শোভা পাচ্ছে সেই ঐতিহাসিক লাল লবঙ্গ, যা শান্তি ও মুক্তির প্রতীক।

গণতন্ত্রের পথে ৫২ বছর অর্জন ও সংহতি অর্ধ-শতাব্দীর বেশি সময়ের এই পথচলায় পর্তুগাল কেবল স্বৈরশাসন থেকেই মুক্ত হয়নি, বরং নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে আধুনিক ইউরোপের অন্যতম উদার ও প্রগতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে।

স্বৈরশাসনের অন্ধকার কাটিয়ে সংবাদপত্রের পূর্ণ স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার ফিরে পাওয়ার ৫২ বছর পূর্ণ হলো আজ। এই সময়ে পর্তুগাল শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অবকাঠামো খাতে অভাবনীয় উন্নতি করেছে। অভিবাসীবান্ধব দেশ হিসেবে এবং মানবাধিকার রক্ষায় পর্তুগাল আজ বিশ্বমঞ্চে প্রশংসিত।

দিবসটি উপলক্ষে পর্তুগাল সরকার এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

সকালে লিসবনের সংসদ ভবনে রাষ্ট্রীয় আয়োজনে বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। লিসবনের প্রধান সড়ক ‘অ্যাভেনিদা দা লিবেরদাদে’-তে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে এক বর্ণাঢ্য গণমিছিল বের করা হয়।

সন্ধ্যায় ঐতিহাসিক চত্বরগুলোতে কনসার্ট ও আতশবাজির মাধ্যমে উদযাপন করা হচ্ছে স্বাধীনতার এই মাহেন্দ্রক্ষণ।

অভিবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ পর্তুগালের এই আনন্দ উৎসবে শামিল হয়েছেন দেশটিতে বসবাসরত হাজার হাজার বাংলাদেশি প্রবাসীও।

গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার এই দিনে প্রবাসীরা স্থানীয়দের সাথে সংহতি প্রকাশ করছেন। লিসবন, পোর্তো ও আলগার্ভের মতো শহরগুলোতে বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষ থেকে পর্তুগিজ বন্ধুদের শুভেচ্ছা জানানো হচ্ছে।

৫২ বছর আগে যে স্বপ্নের বীজ বপন করা হয়েছিল, তা আজ এক বিশাল মহীরুহে পরিণত হয়েছে। তবে বর্তমান বিশ্বের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই গণতন্ত্রকে রক্ষা করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। পর্তুগাল আজ শপথ নিচ্ছে বৈষম্যহীন, আধুনিক এবং মুক্তচিন্তার এক সুন্দর আগামী গড়ার।

Scroll to Top