
পঞ্চগড়, ২৮ মার্চ – পঞ্চগড়ে ভয়াবহ শিলাবৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসে গাছচাপায় এক বৃদ্ধার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এবং জেলার বিভিন্ন এলাকায় ফসল ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে আঘাত হানা এই ঝড়ে নিহত বৃদ্ধা চাকাতি বালার বাড়ি পঞ্চগড় পৌরসভার চাঁনপাড়া এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো রাতের খাবার শেষে তিনি নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। মধ্যরাতে শুরু হওয়া ঝড়ের তাণ্ডবে হঠাৎ বাড়ির পাশের একটি বিশাল গাছ উপড়ে তার ঘরের চালার ওপর আছড়ে পড়ে। পরিবারের সদস্যরা গাছ কেটে তাকে উদ্ধার করার আগেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এই প্রলয়ংকরী ঝড়ে জেলার বোদা, আটোয়ারী ও সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ধ্বংসলীলা চলেছে। শত শত গাছপালা উপড়ে রাস্তাঘাট ও বসতবাড়ির ওপর পড়েছে।
অন্যদিকে পঞ্চগড় রেলস্টেশন এলাকার বাসিন্দা মইনুল ইসলাম ও খুকুমনি দম্পতির ঘরের ওপর পাশের ভবনের ইটের দেয়াল ধসে পড়লে তারা গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া সদর উপজেলার গড়িনাবাড়ি ইউনিয়নের বজ্রাপাড়া এলাকার দরিদ্র ঝালমুড়ি বিক্রেতা আব্দুস সালামের দুটি ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে।
ঝড়ে অসংখ্য মানুষের বসতঘর ও দোকানপাট ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি শিলাবৃষ্টিতে অনেকের ঘরের চালা ফুটো হয়ে গেছে। বিস্তীর্ণ এলাকার মরিচ, ভুট্টা, গম ও পেঁয়াজের বীজসহ ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে এবং বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে অনেক স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। রাত থেকেই ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় জনসাধারণ সড়ক থেকে ভেঙে পড়া গাছ অপসারণে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুমন চন্দ্র দাশ জানিয়েছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতির সার্বিক তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অসহায় ও দরিদ্র পরিবারগুলোকে সরকারিভাবে সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে এবং বিদ্যুৎ বিভাগ দ্রুত সংযোগ স্বাভাবিক করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
এ এম/ ২৮ মার্চ ২০২৬





