ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নতুন নেতা হিসেবে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হচ্ছে। দলটির পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তিনি আগামী সোমবার দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হবেন।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ (১৭ জুলাই) শুক্রবার লেবার পার্টির বিশেষ সম্মেলনে ৫৬ বছর বয়সী বার্নহ্যামকে নতুন নেতা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত করার ঘোষণা দেওয়া হবে। এরপর সোমবার তিনি ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। নয় বছরের বিরতির পর মাত্র চার সপ্তাহ আগে অনুষ্ঠিত এক উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে আবারও ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন বার্নহ্যাম। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলে গত এক দশকের মধ্যে তিনি যুক্তরাজ্যের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী হবেন।
গ্রেটার ম্যানচেস্টরের টানা তিনবারের মেয়র বার্নহ্যাম ‘কিং অব দ্য নর্থ’ নামেও পরিচিত। ২০০১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি এমপি ছিলেন এবং বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। পরে স্থানীয় সরকারে সক্রিয় হয়ে সাধারণ মানুষের ঘনিষ্ঠ নেতা হিসেবে নতুন পরিচিতি গড়ে তোলেন। লেবার পার্টির নেতৃত্ব পাওয়ার এটি বার্নহ্যামের তৃতীয় প্রচেষ্টা। এর আগে ২০১০ ও ২০১৫ সালে দলীয় নেতৃত্বের নির্বাচনে অংশ নিয়ে যথাক্রমে এড মিলিব্যান্ড ও জেরেমি করবিনের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। এবার তিনি দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন।
সম্প্রতি সাবেক ফুটবলার গ্যারি লিনেকারের একটি পডকাস্টে বার্নহ্যাম বলেন, “মানুষকে নতুন উদ্দীপনা দিতে হবে। তাদের মধ্যে আরও দৃঢ় আশা জাগাতে হবে এবং এই বিশ্বাস তৈরি করতে হবে যে দেশ আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।”
লেবার পার্টির অনেক এমপি মনে করছেন, বার্নহ্যাম সাধারণ মানুষের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যোগাযোগ করতে পারবেন। একই সঙ্গে সরকারি সেবা খাতের সংস্কার এবং অর্থনীতিকে গতিশীল করতে আরও পরিবর্তনমুখী পদক্ষেপ নেবেন বলেও তাদের প্রত্যাশা। দলটির নেতারা মনে করছেন, ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে জনমত জরিপে এগিয়ে থাকা নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন রিফর্ম ইউকেকে মোকাবিলায় বার্নহ্যামই সবচেয়ে কার্যকর নেতৃত্ব দিতে পারবেন।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বে লেবার পার্টি ১৪ বছর পর ক্ষমতায় ফিরে আসে। তবে পরবর্তী সময়ে সরকারের বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক বিতর্কে তার অবস্থান দুর্বল হতে থাকে। মে মাসের স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনে দলের খারাপ ফলাফলের পর তার ওপর চাপ আরও বাড়ে।
গত ১৮ জুন উপনির্বাচনে বার্নহ্যামের বিজয়ের পর লেবার পার্টির ভেতরে নেতৃত্ব পরিবর্তনের আলোচনা জোরালো হয়। পরে অধিকাংশ লেবার এমপি স্টারমারের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করলে তিনি ২২ জুন দলীয় নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। একই দিন এমপি হিসেবে শপথ নেন বার্নহ্যাম। এরপর থেকেই তাকে দলের পরবর্তী নেতা হিসেবে দেখা হচ্ছিল।




