
চট্টগ্রাম, ৬ জুন – চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সভা ও মিছিলের ঘটনায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম এবং সাবেক সংসদ সদস্য খাদিজাতুল আনোয়ার সনিসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।
শুক্রবার রাতে ফটিকছড়ি থানার উপপরিদর্শক মো. জামাল হোসেন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ৮০ থেকে ৯০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
এই ঘটনায় ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন নাজিরহাট পৌরসভার পূর্ব সুয়াবিল এলাকার মো. জামান বাবু এবং সাইফুল ইসলাম সজিব। অন্য একজনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার এজাহারে সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম ও সাবেক সংসদ সদস্য খাদিজাতুল আনোয়ার সনিকে ঘটনার প্রধান হুকুমদাতা এবং পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যান্য আসামিদের মধ্যে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম ছাড়াও বখতিয়ার সাঈদ ইরান, সাবরিনা চৌধুরী, জসিম উদ্দিন মুহুরী ও ফোরকান উদ্দিন বাচ্চুর নাম রয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার সকালে ফটিকছড়ি থানার একটি টহল দল খবর পায় যে রোসাংগিরী ইউনিয়নের আজিমনগর এলাকায় নাজিরহাট-মাইজভান্ডার সড়কে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মশাল মিছিল করছেন। অভিযোগ রয়েছে যে মিছিল থেকে নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে স্লোগান দেওয়া হয় এবং রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অংশগ্রহণকারীরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় ধাওয়া দিয়ে কয়েকজনকে আটক করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে চারটি মশাল জব্দ করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে যে গ্রেফতার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে শীর্ষ নেতাদের নির্দেশনায় তারা সেখানে সমবেত হয়েছিল।
এর আগে বৃহস্পতিবার ফটিকছড়ির একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিশ্রামাগারে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একটি মতবিনিময় সভা করেন যার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রবিউল আলম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এনএন/ ৬ জুন ২০২৬






