
ঢাকা, ১৪ ফেব্রুয়ারি – সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে দেশের সাধারণ মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলায়তন ভেঙে জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। এই নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপিকে সরকার গঠনের ম্যান্ডেট দিয়েছে জনগণ। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন এই যাত্রাকে কেন্দ্র করে জনমনে তৈরি হয়েছে বিপুল প্রত্যাশা।
গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পূর্ববর্তী সরকারের পতনের পর দেশের রাজনীতিতে যে গুণগত পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল এই নির্বাচন তারই ধারাবাহিকতা। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষ করে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরেছেন তারেক রহমান। বিমানবন্দরে লাখো জনতার সামনে তিনি যখন নিজের পরিকল্পনার কথা জানান তখন থেকেই তাকে নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে দেশ গঠনে তার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।
লন্ডনে দীর্ঘ সময় বসবাসের সুবাদে তিনি উন্নত বিশ্বের গণতন্ত্র এবং সুশাসনের চর্চা খুব কাছ থেকে দেখেছেন। যুক্তরাজ্যের মতো রাষ্ট্র কীভাবে নাগরিকদের সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং সরকারের জবাবদিহিতা বজায় রাখে তা তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন তারেক রহমানের এই প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা দেশ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জনগণ আশা করছে তিনি পশ্চিমা বিশ্বের আদলে বাংলাদেশেও আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবেন। রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটি অঙ্গকে জনকল্যাণমুখী করা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়টি তার অগ্রাধিকার তালিকায় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন এবং কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে তিনি কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন এমনটাই প্রত্যাশা। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে জনগণ যে রায় দিয়েছে তা মূলত সুশাসন ও পরিবর্তনের পক্ষে রায়। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে জনগণ আর কোনো স্বৈরাচারী শক্তিকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের কাছে মানুষের প্রধান দাবি হলো নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি। মার্টিন লুথার কিংয়ের স্বপ্নের মতোই তারেক রহমানের পরিকল্পনা এখন বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। জনগণ কর ও ভ্যাটের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত যদি সরকার তাদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে পারে। অন্ধকার কাটিয়ে জাতিকে আলোকিত পথে এগিয়ে নেওয়াই এখন নতুন নেতৃত্বের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ।
এস এম/ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬





