নির্বাচনের চার মডেল

নির্বাচনের চার মডেল

ভারতের নরেন্দ্র মোদির প্রতি আস্থা বাংলাদেশে অনেকটা শূন্যের পর্যায়ে। তাঁর যত মুসলমানবিরোধী পলিসিতে সেখানকার লোকেরাও বিরক্ত হয়ে পড়েছেন। তার ওপর যোগ হয়েছে মোদির নতুন বাংলাদেশ বৈরিতা। কিন্তু আমাদের দেশে অনেকেই জানেন না, ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি কোনো রকমে সরকার টিকিয়ে রেখেছেন বিহারের নীতীশ কুমারের জনতা দলের সমর্থনে। আবার যখন নির্বাচন হবে, হয়তো নতুন কেউ আসবেন এবং মোদির এই সাম্প্রদায়িক নীতির পরিবর্তন হবে।

এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে সামনে আমাদের দেশে রাজনীতিবিদেরা পলিসি ভালো বা খারাপ, যা ইচ্ছা পরিবর্তন করুন না কেন, শাসনতান্ত্রিক ভিত্তিটাকে যেন তারা নড়বড়ে না করেন এবং প্রতি চার-পাঁচ বছর অন্তর নির্বাচন দেবেন। রাজনীতিবিদেরা আর যেন দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতার যথেচ্ছ ব্যবহার না করতে পারেন। দেশের জনগণ আবার নির্বাচনে ওই চার মডেলের একটাতে ফিরে যেতে চায় না।

এই নিয়ে একটা পরামর্শ সংস্কার কমিশন বিবেচনা করে দেখতে পারেন। যেসব সংস্কার দরকার সব শেষ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী যদি সংবিধানের কিছু পরিবর্তন করতে চান, আগে সুপ্রিম কোর্ট বেঞ্চের সম্মতি লাগবে। তাঁরা আলোচনা করে সম্মতি দিলে, তারপর সংসদে আলোচনা হবে। সরকারি দলের দুই-তৃতীয়াংশ এবং বিরোধী দলের দুই-তৃতীয়াংশ সম্মতি দিলে তারপর সংশোধনী পাস হবে। অবশ্য এর একটা পূর্বশর্ত আছে—দেশে একটি প্রকৃত বিরোধী দল থাকবে।

প্রশ্ন আসবে, যদি আবার মিলিটারি ক্যু হয়, তখন কী হবে? তাহলে আবার হয়তো আমাদের ‘হ্যাঁ–না’ ভোট দিয়ে শুরু করে এই চার মডেলের একটা দিয়ে শেষ করতে হবে।

তবে মন বলছে, সামনে এসব হবে না। আমাদের সেনাবাহিনীর জন্য ২০২৪ সালের আগস্টে কত বড় সুযোগ ছিল! তারা কোনো সুযোগ না নিয়ে সিভিল সরকার গঠনে সহায়তা করেছে এবং দেশের জনগণের আস্থা ও শ্রদ্ধা কুড়িয়েছে। ভবিষ্যতেও অবশ্যই তারা এই উদাহরণ মেনে চলবে।

[email protected]

Scroll to Top