নিউমোনিয়া ও নিউমোকক্কাল রোগ প্রতিরোধী নিউমোকক্কাল কনজুগেট ভ্যাকসিন ‘এভিমার-১৩’ উৎপাদন শুরু করেছে দেশের স্বনামধন্য ঔষধ প্রস্ততকারী প্রতিষ্ঠান ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। এই ভ্যাকসিনের জন্য এখন আর বিদেশের দিকে চেয়ে থাকতে হবে না। ইনসেপ্টা উৎপাদিত ‘এভিমার-১৩’ নিউমোকক্কাল জনিত সকল রোগ প্রতিরোধে এই ভ্যাকসিনটি কার্যকরি ভূমিকা রাখবে।
বৃহস্পতিবার ২৫ জানুয়ারি সকালে বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশনের (বিএলএফ) উদ্যোগে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এভিমার-১৩ এই কার্যকর প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিনটির মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে ‘রেসপিরেটরি ভ্যাকসিন;’ শীর্ষক এক সায়েন্টিফিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেমিনারে সভাপতি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশনের সভাপতি, বক্ষব্যধি বিশেষজ্ঞ প্রফেসর
ডাক্তার মো. আলী হোসেন। সায়েন্টিফিক সেমিনারে সহযোগিতা করে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।
সেমিনারে বিশেষজ্ঞ মতামত প্রদান করেন বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রফেসর মো. রুহুল আমীন, ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রফেসর মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ, কনসালটেন্ট পালমোনোলজিস্ট ডা. মোহাম্মদ আব্দুস শাকুর খান, বিএলএফের থোরাসিক সার্জারি সেলের সদস্য সচিব অধ্যাপক একেএম আকরামুল হক এবং জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের
সহকারি অধ্যাপক ডাক্তার গোলাম সারওয়ার এলএইচ ভুঁইয়া। ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের পক্ষ থেকে বক্তব্য প্রদান করেন নির্বাহী পরিচালক (মার্কেটিং) ডাক্তার ই এইচ আরেফিন আহমেদ।
সভাপতির বক্তেব্যে বক্ষব্যধি বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডাক্তার মো. আলী হোসেন বলেন, ইনসেপটা ভ্যাকসিন ডিভিশন প্রথমবারের মতো অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এই ভ্যাকসিনটি বাংলাদেশে প্রস্তত শুরু করেছে। এটি দেশের জন্য অত্যন্ত গর্বের। আমরা এখন থেকে নিজেদের দেশেই প্রস্ততকৃত ‘এভিমার-১৩’ ভ্যাকসিন দিয়ে সকল বয়সের মানুষের নিউমোকক্কাল রোগ প্রতিরোধ করতে পারবো। ইনসেপ্টা
আগামীতে আরও নতুন নতুন ভ্যাকসিন উৎপাদন করবে বলে আমরা আশাবাদী।

বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশনের মহাসচিব ডা. মো. শাহীনের স্বাগত বক্তব্য শেষে সেমিনারে পৃথক দুটি সায়েন্টিফিক প্রেজেন্টেশন দেন ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারি অধ্যাপক ডা. আঞ্জুমান শারমীন উইনি এবং ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লি. এর মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজিক ডিপার্টমেন্টের ব্র্যান্ড এক্সিকিউটিভ মো. শাকিল মিয়া। এরপর প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। সবশেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাংলাদেশ শেক মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)-এর রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ডাক্তার সম্প্রীতি ইসলাম। সেমিনার সঞ্চালনা করেন বিএলএফের মিডিয়া ও কালচারাল অ্যাফেয়ার্স সেলের সদস্য সচিব বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সাদিয়া সুলতানা রেশমা।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ নিউমোনিয়া ও নিউমোকক্কাল রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। বিশেষ করে অ্যাজমা, সিওপিডি, হৃদরোগী, কিডনি রোগী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাদের দূর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাÑ এমন ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। এতোদিন বাংলাদেশে এই ভ্যাকসিনটির অনেক বেশি চাহিদা থাকলেও শুধুমাত্র আমদানীকৃত ভ্যাকসিনের উপরই আমাদের নির্ভর করতে হতো। ফলে এই ভ্যাকসিন ছিলো খুবই অপ্রতুল।





