মিরপুর টেস্টে তৃতীয় দিন

মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনটা ক্যারিবীয়দেরেই দখলে ছিল। পরের সেশনে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। নাঈম হাসানের ঘূর্ণিতে দৃশ্যপট বদলায়। দ্বিতীয় সেশনে ৮ ওভারের মধ্যেই গুটিয়ে যায় ক্যারিবীয়রা। নাঈমের ৪ উইকেটের সুবাধে প্রথম ইনিংস শেষে ২৭ রানের লিড পেয়েছে বাংলাদেশ।
বুধবার মিরপুর শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে ব্যাটে নামে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ৯৭.৪ ওভার ব্যাট করে ২৭২ রানে থেমে যায় নাজমুল হোসেন শান্তর দল। জবাবে নেমে ৮২.৫ ওভারে ২৪৫ রানে থামে উইন্ডিজ।
দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ক্যারিবীয়দের সংগ্রহ ছিল ৪৮ ওভারে ৪ উইকেটে ১৩৪ রান। ১৩৮ রানে পিছিয়ে ছিল। তেজনারায়ণ ৪৩ রানে এবং জাস্টিন গ্রিভস ১৫ রানে তৃতীয় দিন শুরু করেন। বাংলাদেশের হয়ে বলে শুরু করেন হাসান মাহমুদ। দিনের প্রথম সাফল্য আসে ৫৮.২ ওভারে ১৬২ রানে। পঞ্চম উইকেট হারায় উইন্ডিজ। শরিফুলের বলে সেকেন্ডে স্লিপে শান্তর দুর্দান্ত ক্যাচে ফেরেন তেজনারায়ণ চন্দরপল। ৬ চার ও ১ ছক্কায় ১৮৪ বলে ৫৬ রান করেন।
ষষ্ঠ উইকেটে রোস্টন চেজ ও জাস্টিন গ্রিভস ৫১ রান যোগ করেন। ৭৪.৫ ওভারে ২১৩ রানে জুটি ভাঙেন নাঈম হাসান। জাস্টিন গ্রিভসকে এলবিডব্লিউ করে ফেরান টাইগার স্পিনার। ১০৩ বলে ৪৬ রান করেন। উইকেট পতনের পর মধাহ্ন বিরতিতে যায় দুদল।
প্রথম সেশনে ২৬ ওভার ৫ বলে ৭৯ রান তুলে ২ উইকেট হারায় ক্যারিবীয়রা। বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। ৮ ওভারে ৩২ রান যোগ করতে বাকি ৪ উইকেট হারিয়ে গুটিয়ে যায় সফরকারী দল।
২৩৪ রানে সপ্তম উইকেট হারায় উইন্ডিজ। মিরাজের বলে এগিয়ে এসে খেলতে চেয়েছিলেন বিশপ। বল নিচু হয়ে চলে যায় লিটন দাসের গ্লাভসে। স্টাম্প ভাঙতে দেরী করেননি। ১১ বলে ১৫ রান করে ফেরেন। ৮১তম ওভারে দলীয় ২৪৫ রানে জোড়া আঘাত হানেন নাঈম। দ্বিতীয় বলে শামার জোসেফ লিটনের গ্লাভসে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। ১০ বলে ৪ রান করেন। শেষ বলে জোমেল ওয়ারিক্যানকে এলবিডব্লিউ করেন। রিভিউ নিয়েও লাভ হয়নি, খালি হাতে ফেরেন।
এরপর আর কোনো রান যোগ করতে পারেনি ক্যারিবীয়রা। ৮২.৫ ওভারে নাঈম হাসানের বলে মিড অফে মিরাজের হাতে ক্যাচ দেন জেডিন সিলেস। তাতেই থামে ক্যারিবীয়দের ইনিংস। সিলেস খালি হাতে ফেরেন, চেজ অপরাজিত থাকেন ৪৩ রানে।
বাংলাদেশ বোলারদের মধ্যে প্রথম ইনিংসে নাঈম হাসান ১০.৫ ওভারে ১ মেডেনসহ ৩৩ রানে ৪ উইকেট নেন। মিরাজ ও তাইজুল নেন দুটি করে উইকেট। হাসান ও শরিফুল নেন একটি করে।
এর আগে প্রথম ইনিংসে ব্যাটে নেমে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন সাদমান ইসলাম। ১০৫ রান করেন তিনি। তাওহীদ হৃদয় ৪২, লিটন দাস ৩৪*, মুমিনুল হক ২৮ রান করেন। বাকিদের কেউ নামের সাথে সুবিচার করতে পারেননি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে প্রথম ইনিংসে জোমেল ওয়ারিক্যান ৫ উইকেট নেন। জশুয়া বিশপ ও শামার জোসেফ নেন দুটি করে উইকেট। জেইডেন সিলেস নেন এক উইকেট।
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…

