নতুন সরকার শপথ নেওয়ার আগেই আন্দোলনের ডাক দেওয়া দেশের জন্য ভালো লক্ষণ নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সোমবার ১৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে রাজধানীর মহাখালীতে রাওয়া ক্লাবে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এম এ জি ওসমানী-এর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি ছিলেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-সহ ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যভুক্ত দলগুলো ‘সারা দেশে জাতীয় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা, নির্যাতন, নিপীড়ন, হত্যা ও ধর্ষণের প্রতিবাদে’ রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ডাক দিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য, নতুন সরকার এখনো শপথই নেয়নি, অথচ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হচ্ছে। এটি বাংলাদেশের জন্য ভালো সাইন নয়। বিরোধী দলকেও জনগণের সুখ-দুঃখ বিবেচনায় নিয়ে কর্মসূচি দেওয়া উচিত।
নতুন সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিরোধী দলের নেতাদের বাসায় গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন, যা দেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিরোধী দল গঠনমূলক সমালোচনা করবে এবং অযথা রাজপথ অবরোধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করবে না।
নতুন মন্ত্রিসভা গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছোট পরিসরের একটি মন্ত্রিসভা হতে পারে বলে শুনেছেন। দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখা, দুর্নীতিমুক্ত ও দক্ষ ব্যক্তিদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার আশা প্রকাশ করেন তিনি। জোটের শরিকদেরও প্রতিনিধিত্ব থাকতে পারে বলে জানান।
আলোচনা সভায় হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, স্বাধীন দেশে এম এ জি ওসমানী যে মর্যাদা পাওয়ার কথা ছিল, তা থেকে তিনি বঞ্চিত হয়েছেন। এতে ব্যক্তিগতভাবে তাঁর নয়, জাতিরই ক্ষতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল গণতন্ত্রের জন্য, কিন্তু স্বাধীনতার পর গণতন্ত্র পূর্ণতা পায়নি। ১৯৭৫ সালে একদলীয় শাসনব্যবস্থা চালুর সময় ওসমানী প্রকাশ্যে এর বিরোধিতা করেছিলেন এবং নৈতিক অবস্থান থেকে পদত্যাগ করেন।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ প্রস্তাব করেন, মুক্তিযুদ্ধে সর্বাধিনায়ক হিসেবে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ওসমানীকে মরণোত্তর ‘ফিল্ড মার্শাল’ পদে ভূষিত করার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। এ বিষয়ে অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারপ্রধানের কাছে সুপারিশ পাঠানোর আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের আয়োজন করে রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া)। সভায় সংগঠনের চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ আবদুল হক, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.) আবু নওরোজ খুরশিদসহ সামরিক ও বেসামরিক বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।




