নতুন মন্ত্রিসভায় কিশোরগঞ্জের স্থান নিয়ে জল্পনা, আলোচনায় তিন হেভিওয়েট নেতা – DesheBideshe

নতুন মন্ত্রিসভায় কিশোরগঞ্জের স্থান নিয়ে জল্পনা, আলোচনায় তিন হেভিওয়েট নেতা – DesheBideshe

নতুন মন্ত্রিসভায় কিশোরগঞ্জের স্থান নিয়ে জল্পনা, আলোচনায় তিন হেভিওয়েট নেতা – DesheBideshe

কিশোরগঞ্জ, ১৫ ফেব্রুয়ারি – ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোড়জোড় শুরু হয়েছে, আর সেই সঙ্গে কিশোরগঞ্জ জেলাজুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—নতুন মন্ত্রিসভায় এই জেলা থেকে কেউ স্থান পাচ্ছেন কি না।

সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে এই জেলার কোনো উপদেষ্টা ছিলেন না এবং এর আগে ২০১৮ সালের নির্বাচনে গঠিত মন্ত্রিসভাতেও কিশোরগঞ্জের কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি। দীর্ঘদিনের এই ‘মন্ত্রী-বঞ্চনা’র অবসান ঘটিয়ে এবার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জেলার হেভিওয়েট নেতাদের মন্ত্রিসভায় দেখার প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা। ঐতিহাসিকভবে কিশোরগঞ্জ জাতীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং স্বাধীনতার পর থেকে এই জেলা প্রায় নিয়মিতভাবেই মন্ত্রিত্ব বা রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছে।

জাতীয় চার নেতার অন্যতম সৈয়দ নজরুল ইসলাম, সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান ও মো. আবদুল হামিদের মতো ব্যক্তিত্বরা এই জেলারই সন্তান। এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মতো প্রভাবশালী নেতারা মন্ত্রিসভায় দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মন্ত্রিসভায় জেলার কোনো সাংসদ স্থান না পাওয়ায় প্রথমবারের মতো ‘মন্ত্রীশূন্য’ জেলা হিসেবে কিশোরগঞ্জ আলোচিত হয়, যা স্থানীয় রাজনীতিতে হতাশার জন্ম দেয়।

এবারের নির্বাচনে কিশোরগঞ্জের ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বিএনপি এবং একটিতে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী ভূমিধস জয় পাওয়ায় পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিয়েছে। জেলার তিনজন হেভিওয়েট নেতাকে নিয়ে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির জোর গুঞ্জন চলছে। কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসন থেকে বিজয়ী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুককে নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে; দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বা এমনকি রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য তালিকায়ও থাকতে পারেন।

কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে বিজয়ী বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের নাম মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক অথবা কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্ভাব্য দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে শোনা যাচ্ছে। অন্যদিকে, কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসন থেকে বিজয়ী জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল আলমকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষেত্রে সততা, আন্দোলনে ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততাকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠনের পরিকল্পনা করছেন। কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল আলম এ বিষয়ে জানান, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে তিনি কিছু জানেন না, তবে দল যদি তাকে কোনো দায়িত্ব দেয় তবে তিনি তা পালন করবেন, নতুবা এমপি হিসেবেই জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকবেন। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পরই স্পষ্ট হবে কিশোরগঞ্জ তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে কি না।

এ এম/ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬



Scroll to Top