রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মাত্র আট বছর বয়সে কবিতা লিখতে শুরু করেছিলেন। তাঁর সাহিত্যজীবন বিস্তৃত ছিল প্রায় সাত দশকজুড়ে। দুই হাজারের বেশি গান, পঞ্চাশটির বেশি কাব্যগ্রন্থ, উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, প্রবন্ধ, চিত্রকলা—এই বিশাল সৃষ্টিভান্ডারের কতটুকু আজকের তরুণেরা স্পর্শ করেছে? সত্যি বলতে, খুবই সামান্য।
তবে একটি কথা না বললেই নয়। এ প্রজন্মকে একেবারে দোষ দেওয়াটাও ঠিক হবে না। তাঁরা রবীন্দ্রনাথকে ভালোবাসে, তবে ভালোবাসার প্রকৃতি বদলে গেছে। আগের প্রজন্ম রবীন্দ্রনাথকে পড়ত বইয়ের পাতায়, এখনকার প্রজন্ম তাঁকে খোঁজে রিলসে, শর্ট ভিডিওতে, স্পটিফাইয়ের প্লেলিস্টে।
রবীন্দ্রসংগীত কিন্তু আজও তরুণদের কাছে জীবন্ত। অরিজিৎ সিং থেকে শুরু করে বাংলাদেশের অনেক তরুণ শিল্পী রবীন্দ্রনাথের গান নতুনভাবে গাইছেন, নতুন প্রজন্ম সেটি শুনছে, গুনগুন করছে। এটিও কি এক ধরনের পাঠ নয়? হয়তো তর্ক করা যায়। কিন্তু গান শোনা আর সাহিত্য পড়া —এ দুটো এক জিনিস নয়। রবীন্দ্রনাথের একটি ছোটগল্প পড়লে যে অনুভূতি হয়, একটি রিলস দেখে সেটি হওয়া সম্ভব নয়। ‘হৈমন্তী’র যন্ত্রণা, ‘কাবুলিওয়ালা’র বুকভাঙা মমতা, ‘নষ্টনীড়’-এর জটিল মানবসম্পর্ক—এ গভীরতা শুধু পাঠেই অনুভব করা যায়।



