অমিত শাহকে নিয়ে অক্ষয়ের পোস্টে ধ্রুব রাঠির কটাক্ষ

বলিউড অভিনেতা অক্ষয় কুমারকে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানো নিয়ে কটাক্ষ করেছেন ইউটিউবার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ধ্রুব রাঠি। তার মন্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
আলোচনায় উঠে এসেছে তারকাদের দেশপ্রেম, রাজনৈতিক যোগাযোগ, পুরস্কার এবং রাজনীতিতে প্রবেশের আকাঙ্ক্ষার মতো বিষয়।
দেশাত্মবোধক সিনেমায় অভিনয়ের জন্য পরিচিত অক্ষয় কুমার। অন্যদিকে, ভারতের সরকার ও ক্ষমতাসীনদের রাজনীতির সমালোচনার জন্য পরিচিত ধ্রুব রাঠি।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) অমিত শাহকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট দেন অক্ষয়। সেখানে তিনি লেখেন, ‘জন্মদিনের অনেক শুভেচ্ছা, অমিত শাহজি। আপনি সব সময় দেশকে সবার আগে রেখেছেন। মহাদেবের কৃপা আপনার ওপর থাকুক। আপনার স্বাস্থ্য ভালো থাকুক এবং আপনার সংকল্প সব সময় সত্য হোক। জয় মহাকাল।’
অক্ষয়ের সেই পোস্টের জবাবে ধ্রুব রাঠি মন্তব্য করেন, অমিত শাহ গ্যাংস্টারদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন এবং চলচ্চিত্রশিল্পের মানুষের জীবিকা ও পরিবারের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছেন। অক্ষয়কে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ক্ষমতাবানদের সামনে নতজানু না হয়ে পুরো চলচ্চিত্রশিল্পের একজোট হয়ে সাহসের সঙ্গে অবস্থান নেওয়া উচিত।
রাঠির বক্তব্য, অক্ষয় ইতিমধ্যে আগামী পাঁচ প্রজন্মের জন্য যথেষ্ট অর্থ ও খ্যাতি অর্জন করেছেন। তাই নিরাপত্তার আশায় তার মাথা নত করার প্রয়োজন নেই। ভবিষ্যতে এই সময়ের দিকে ফিরে তাকালে অক্ষয় কী ভাববেন এবং নাতি-নাতনিদের কী বলবেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে চলচ্চিত্রশিল্পের অন্য সদস্য ইমরান খান ও প্রকাশ রাজের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে ধ্রুব রাঠি লিখেন,“এই স্বৈরাচারী শাসকের গুন্ডারাজও আর কয়েক বছরের মধ্যে শেষ হবে। প্রশ্ন হলো, এই সময়টার দিকে ফিরে তাকিয়ে তুমি কী ভাববে? তোমার নাতি-নাতনিদের কী বলবে? বলবে, নিরাপত্তার মিথ্যা আশায় মাথা নত করেছিলে? নাকি বলবে, সাহস দেখানোর মতো বুকের পাটা তোমার ছিল? তোমার সহশিল্পী ইমরান খান ও প্রকাশ রাজের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নাও।”
তার মতে, চলচ্চিত্রশিল্প যত দ্রুত নিজেদের অধিকারের পক্ষে একজোট হয়ে দাঁড়াবে, শিল্পের মানুষ তত দ্রুত স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা ফিরে পাবেন।
ধ্রুব রাঠির মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারকাদের রাজনৈতিক অবস্থান ও জনসমক্ষে তাদের আচরণ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। আলোচনায় উঠে আসে, পর্দায় দেশপ্রেমিক চরিত্রে অভিনয় করা এবং বাস্তব জীবনে দেশপ্রেমের পরিচয় দেওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
বিতর্কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের একাংশ তারকাদের রাজনৈতিক যোগাযোগের পেছনে জাতীয় পুরস্কার, নিরাপত্তা কিংবা রাজনীতিতে প্রবেশের আকাঙ্ক্ষা কাজ করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন। একজন ব্যবহারকারী লেখেন, ‘তারা স্বীকৃতি চায়, জাতীয় পুরস্কার চায়, আন্ডারওয়ার্ল্ড থেকে সুরক্ষা চায়। চলচ্চিত্রশিল্পে ব্যর্থ হলে রাজনীতিতে প্রবেশের টিকিটও চায়।’
আরেক ব্যবহারকারীর মন্তব্য, ‘অক্ষয়ের কাছে রাজনীতি আদর্শের বিষয় নয়, বরং নিজের ব্র্যান্ডের নিরাপত্তার বিষয়। দেশপ্রেমমূলক সিনেমার কাজ পেতে হলে সেই সুযোগ যাদের কাছ থেকে আসে, তাদের বিরোধিতা করা যায় না।’ ইন্ডিয়া টাইমস
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…

