
দিনাজপুর, ১৬ মার্চ – প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এই দেশ আমাদের সবার এবং একটি উন্নত দেশ গড়তে হলে সবাইকে ধৈর্য ধরে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। জনগণের সহযোগিতা থাকলে বর্তমান সরকার তাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে সর্বাত্মক চেষ্টা করবে।
সোমবার ১৬ মার্চ দিনাজপুর সার্কিট হাউস মাঠে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশ ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী দিনাজপুরের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত স্মৃতির কথা স্মরণ করেন। তিনি জানান, বালুবাড়ি ও ঘাসিপাড়ায় তার নানাবাড়ি থাকায় এই এলাকার প্রতি তার বিশেষ টান রয়েছে।
নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এরই অংশ হিসেবে দিনাজপুর জেলার কাহারোল এলাকা থেকে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।
খাল খননের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নদী ও খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাব দেখা দেয় এবং বর্ষায় বন্যার সৃষ্টি হয়। আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বর্ষার পানি ধরে রাখা সম্ভব হবে এবং কৃষিকাজে তা ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া এবং আর্সেনিক সমস্যা সমাধানেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নারীর ক্ষমতায়নে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি জানান, দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারের নারী প্রধানের কাছে একটি করে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৫টি এলাকায় ৩৭ হাজার মানুষকে যুক্ত করে এই প্রকল্পের পাইলট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় নেতাদের জন্য বিশেষ সম্মানী ভাতা চালু করা হয়েছে।
আগামী মাসের মধ্যে কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড কর্মসূচির পাইলট প্রকল্প শুরু হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন। কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দিনাজপুর একটি কৃষিপ্রধান অঞ্চল। তাই বেকার তরুণদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ঈদের পর শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে এই এলাকায় কৃষিভিত্তিক শিল্প ও কলকারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
এনএন/ ১৬ মার্চ ২০২৬





