
ঢাকা, ৩১ মার্চ – দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স আসার নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে চলতি মার্চ মাসে। মাস শেষ হওয়ার আগেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলার। এর আগে একক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২৫ সালের মার্চ মাসে, যার পরিমাণ ছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার।
সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পবিত্র রমজান ও আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে প্রবাসীরা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি অর্থ পাঠিয়েছেন। এর ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহে এই ইতিবাচক ধারা তৈরি হয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে অত্যন্ত ভালো প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসের প্রথম ২৯ দিনেই প্রবাসীরা ৩৪৯ কোটি মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন।
বর্তমান বিনিময় হার প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে এর পরিমাণ প্রায় ৪২ হাজার ৫০০ কোটি টাকারও বেশি। এটি দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ৩০২ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা।
গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের ২৫২ কোটি ডলারের তুলনায় এই বছর একই মাসে রেমিট্যান্স বৃদ্ধির হার ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট ২ হাজার ৫৯৪ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এটি আগের অর্থবছরের একই সময়ের ২ হাজার ১৭৪ কোটি ডলারের তুলনায় ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।
প্রবাসী আয় ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন আমদানির দায় পরিশোধ করার পরও দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কিছুটা বেড়েছে।
সোমবার দিন শেষে মোট রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিপিএম ৬ পদ্ধতি অনুযায়ী হিসাব করলে এই রিজার্ভের পরিমাণ ২৯ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার।
এনএন/ ৩১ মার্চ ২০২৬





