
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত ‘জন এফ. কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস’ দেউলিয়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। এমনকি আগামী মঙ্গলবারই প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’।
গতকাল রোববার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংবাদপত্রটি জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন কেনেডি সেন্টারের পরিচালনা পর্ষদ মনে করছে, ভবনের সম্মুখভাগে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করাই প্রতিষ্ঠানটিকে আসন্ন ও নিশ্চিত আর্থিক ধস থেকে রক্ষার একমাত্র উপায় হতে পারে।
পর্ষদের আশঙ্কা, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই কর্মীদের বেতন দেওয়া এবং ভবনটির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বহন করার সক্ষমতা হারাতে পারে কেনেডি সেন্টার।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিতব্য বিশেষ বৈঠকের আগে ৫৭ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সংকট ও ভবনের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। বৈঠকে ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন পর্ষদ এ দুটি প্রধান সমস্যা নিয়ে আলোচনা করবে।
ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, বিপুল ব্যয়ের কারণে কেনেডি সেন্টারের মূল ভবনটি অবিলম্বে বন্ধ করে দেওয়ার সুপারিশ করেছেন পর্ষদের সদস্যরা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কেনেডি সেন্টারে ট্রাম্পের সম্পৃক্ততার স্বীকৃতি দেওয়া হলে তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে আর্থিকভাবে সহায়তা করতে পারেন বলে পর্ষদের সদস্যরা মনে করছেন।
ট্রাম্প গত বছর দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর কেনেডি সেন্টারের চেয়ারম্যান হিসেবে নিজেকে নিয়োগ করেন। এরপর থেকেই প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক সংকট, নেতৃত্বে পরিবর্তন এবং আইনি বিরোধের মধ্যে রয়েছে।
গত ডিসেম্বরে ট্রাম্পের মনোনীত পরিচালনা পর্ষদ কেনেডি সেন্টারের নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প-কেনেডি সেন্টার’ করার পক্ষে ভোট দেয়। তবে পরে আদালতের হস্তক্ষেপে সেই উদ্যোগ আটকে যায়।
ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রতিবাদে বেশ কয়েকজন শিল্পী কেনেডি সেন্টারে তাদের অনুষ্ঠান বাতিল করেছেন। এর ফলে টিকিট বিক্রি কোভিড-১৯ মহামারির পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে বলেও মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর হিসাবে, কেনেডি সেন্টার চলতি অর্থবছরে ২২ কোটি ডলার আয় করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। তবে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১২ কোটি ৪০ লাখ ডলার সংগ্রহ করতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্যাপক ব্যয় সংকোচনের পরও এতে প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ ডলারের ঘাটতি তৈরি হবে।
তবে কেনেডি সেন্টারের এক মুখপাত্র এ সংকটের জন্য আগের নেতৃত্বের আর্থিক অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ট্রাম্পের নাম যুক্ত হওয়ার কারণে নতুন দাতাদের কাছ থেকে অর্থ সহায়তা পাওয়া গেছে।
প্রয়াত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডির নামে প্রতিষ্ঠিত এই সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পারফর্মিং আর্টস কেন্দ্র। কেনেডি নাগরিক অধিকার আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। ১৯৬৩ সালে তিনি আততায়ীর গুলিতে নিহত হন।
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…