কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে দুর্বৃত্তদের গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত রাকিবুল ইসলাম রাকিব (২৫) নিহত হয়েছেন।
রাকিব শেখ বোরহান উদ্দিন কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তার বাসা পুরান ঢাকার নিমতলিতে। বাবার নাম তরিকুল ইসলাম খোকন।
রোববার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে মারা যান তিনি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক (আরএস) ডা. মোস্তাক আহমেদ এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, নিহত রাকিবুল ইসলামের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া তার মাথায় গুলির চিহ্ন রয়েছে।
জানা গেছে, রাতে হঠাৎ এক যুবক কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রকাশ্যে ৪ রাউন্ড গুলি করে। আনুমানিক রাত সোয়া ৯টার দিকে আহত রাকিবকে পথচারীরা উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করেন।
এর আগে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম জানিয়েছিলেন, জাতীয় শহীদ মিনার এলাকায় এক যুবককে গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। বিস্তারিত বিষয় জানার চেষ্টা চলছে।
রাকিবকে হাসপাতালে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন জিএম ইশান নামে এক যুবক। তিনি জানান, তারা কয়েকজন বন্ধু শহীদ মিনারের পাশে আড্ডা দিচ্ছিলেন। হঠাৎ কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শুনে এগিয়ে গেলে দেখেন যে রাকিব রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
অন্যদিকে হাসপাতালে রাকিবের বন্ধু রনি জানান, রাকিব ও কয়েকজন মেয়ে বন্ধু শহীদ মিনারের পাশের চায়ের দোকানে চা খাচ্ছিলেন। এসময় এক যুবক রাকিবকে ডেকে নিয়ে যান। কিছুক্ষণের মধ্যে গুলির শব্দ শুনে রনিসহ অন্যরা শহীদ মিনারের দিকে গিয়ে দেখেন রাকিব রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন, তার মাথায় গুলি লেগেছে এবং শরীরের একাধিক স্থানে কুপিয়ে জখম করা রয়েছে। তবে ঘটনার সময় সেখানে অবস্থানরত লোকজন এ ঘটনায় জড়িত থাকা একজনকে ধরে ফেলেন। পরে তাকে পুলিশে দেওয়া হয়।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, এক যুবককে গুলিবিদ্ধ ও ছুরিকাঘাতে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়। পরে ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টার (ওসেকে) তিনি মারা যান। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।




