
বেইজিং, ২০ এপ্রিল – এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দক্ষিণ চীন সাগর এবং তাইওয়ান প্রণালিকে কেন্দ্র করে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সেখানে শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইন মিত্র বাহিনীর এ যাবৎকালের বৃহত্তম সামরিক মহড়া বালিকাতান ২০২৬। সোমবার এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ৪১তম বারের মতো এই মহড়ার উদ্বোধন করা হয়। ১৯ দিনব্যাপী এই আয়োজনে প্রথমবারের মতো জাপানি সৈন্যদের একটি শক্তিশালী দল সরাসরি অংশ নেওয়ায় এটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
সামরিক এই মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইনের নৌ, বিমান ও স্থলবাহিনীর ১৭ হাজারেরও বেশি সদস্য অংশগ্রহণ করছেন। শোল্ডার টু শোল্ডার স্লোগানে পরিচালিত এই মহড়ায় সহযোগী হিসেবে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ফ্রান্স ও কানাডার প্রতিনিধি দলও যুক্ত রয়েছে। তবে এই মহড়াকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে চীন। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে আগুন নিয়ে না খেলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বেইজিং। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে দলবদ্ধ হওয়া কেবল উত্তেজনা বৃদ্ধি করবে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ।
বিশেষ করে তাইওয়ান প্রণালির নিকটবর্তী উত্তর ফিলিপাইন ও দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত জলসীমায় এই কার্যক্রমকে বেইজিং সহজভাবে নিচ্ছে না। এবারের মহড়ার অন্যতম আকর্ষণ জাপানের টাইপ ৮৮ সারফেস টু শিপ মিসাইল ব্যবহার করে একটি পরিত্যক্ত জাহাজ ধ্বংস করার অনুশীলন। যা এই অঞ্চলে জাপানের ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতিরই ইঙ্গিত দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের মহড়া মুখপাত্র কর্নেল রবার্ট বান জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যমান অস্থিরতা সত্ত্বেও এই মহড়া পরিচালনা করা হচ্ছে ইন্দো প্যাসিফিক অঞ্চলকে মুক্ত রাখার অঙ্গীকার থেকে। এটি ফিলিপাইনের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের বহিঃপ্রকাশ। বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি ইরান থেকে চীনগামী একটি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্র আটকে দেওয়ার ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। মালাক্কা প্রণালিতে সম্ভাব্য অবরোধ আরোপের গুঞ্জনের মাঝে এই সামরিক শক্তি প্রদর্শন এশীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
এস এম/ ২০ এপ্রিল ২০২৬






