মেহেরপুরে সরকারি প্রণোদনার পেঁয়াজ আবাদ করে বড় ধরনের লোকসানে পড়েছেন কৃষকরা। পেঁয়াজ চাষের যাবতীয় খরচ করে পেঁয়াজের গুটির বদলে মিলছে শুধুই পেঁয়াজের শেকড়। পেঁয়াজের ঘাটতির বছরে যা দেশের জন্য বড় ধরনের দুঃসংবাদ।
অমৌসুমের বীজ জেনেও কোন অদৃশ্য কারণে চাষিদেরকে দিয়ে আবাদ করানো হলো সে প্রশ্নের উত্তর মিলছে না। যার খেসারত দিতে হচ্ছে জেলার পাঁচ শতাধিক চাষিকে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারি প্রণোদনার আওতায় পেঁয়াজ আবাদ বৃদ্ধির জন্য চলতি মৌসুমে মেহেরপুর জেলার ৫২০ জন প্রান্তিক চাষিকে বীজ ও সার সহায়তা দেয় কৃষি অফিস। প্রত্যক চাষি এক বিঘা করে জমি পেঁয়াজ আবাদ করেন। সরকারি বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বিএডিসি ভারত থেকে আমদানি করে নাসিক রেড এন ৫৩ জাতের পেঁয়াজ বীজ। যা প্রণোদনা হিসেবে বিনামূলে এইসব প্রান্তিক চাষির মাঝে বিতরণ করে কৃষি অফিস।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নির্দেশনায় জেলার তিনটি উপজেলায় ৫২০ জন চাষিকে এক কেজি করে পেঁয়াজ বীজ ও দুই প্রকার সার দেওয়া হয়।
চাষিরা জানান, সরকারি এ বীজে ভরসা করে চাষিরা কেউ বীজ বপণ করেন আবার কেউ চারা তৈরি করে পেঁয়াজ চারা রোপণ করেছিলেন। নভেম্বর মাসে ক্ষেতে পেঁয়াজ চারা রোপণ করলেও আজ পর্যন্ত মিলছে না পেঁয়াজের গুটি। ক্ষেতগুলোতে পুষ্ট পেঁয়াজ গাছ থাকলেও তার গোড়ায় কোন পেঁয়াজ পাচ্ছেন না চাষিরা। গুটি বাঁধবে এ আশায় চাষিরা দিনের পর দিন অপেক্ষা করে প্রয়োজনীয় সার কীটনাশকে ব্যয় করে যাচ্ছেন। কিন্তু গাছ তুললে গোড়াতে শুধু শেকড় ছাড়া কোন গুটির দেখা মিলছে না। কৃষি অফিসের কাছ থেকে কোন সদুত্তোর না পেয়ে পেঁয়াজের আশা ছেড়ে দিয়েছেন অনেক কৃষক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষি কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা গেছে, ভারতীয় নাসিক রেড এন ৫৩ পেঁয়াজ বীজ দিয়ে মূলত গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ আবাদ করা হয়। জেলার তিনটি উপজেলায় গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের বেশ ভাল ফলন ও দাম পেয়েছেন চাষিরা। গ্রীষ্মকালীন এ জাতটি শীতকালে আবাদ করলে পেঁয়াজের গুটি হবে না এটা জানতেন কৃষি কর্মকর্তারা। কিন্তু উপর মহলের চাপে তারা শীতকালে এ বীজ বিতরণ করেছেন। কোন অদৃশ্য কারণে বড় কর্তারা এ জাতের বীজ আবাদে কৃষকদের বাধ্য করেছেন সে প্রশ্নের উত্তর মেলেনি কারও কাছ থেকে।
ক্ষতিগ্রস্থ চাষি সাহারবাটি গ্রামের তোহিদুল ইসলাম জানান, এক বিঘা পেঁয়াজ আবাদের তার এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকার উপরে। পেঁয়াজ তোলার সময় পেরিয়ে গেলেও পেঁয়াজের গুটি বাঁধেনি। এখন ক্ষেত পরিস্কার করতে আরও কিছু টাকা খরচ হবে। কৃষি অফিসে বারবার যোগাযোগ করেও কোন নির্দেশনা পাচ্ছেন না ভুক্তভোগী চাষিরা।
ভুক্তভোগী পেঁয়াজ চাষিরা জানান, সরকারি বীজ তাই ভাল ফলনের আশায় পেঁয়াজ আবাদ করেছিলেন তারা। কিন্তু তাদের জানা ছিল না গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের বীজ শীতকালে আবাদ করলে তাতে গুটি হবে না। ফলে পুরো আবাদের লোকসানে পড়ে অসহায় হয়ে পড়েছন এসব চাষিরা।
পেঁয়াজ আবাদের সর্বনিম্ন আর্থিক ক্ষতি হিসেবে করলে দেখা যায়, প্রতি বিঘায় যদি ৩০ হাজার টাকা খরচ হয় তবে ৫২০ জন চাষির ৫২০ বিঘা জমিতে মোট খরচের পরিমাণ ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকার উপরে। চলতি মৌসুমে পেঁয়াজের বড় সংকটের বছরে একদিকে যেমন পেঁয়াজ উৎপাদন কমে গেছে, অন্যদিকে বড় ধরনের্ আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন প্রান্তিক চাষিরা। যে ক্ষতি পুষিয়ে দিতে কৃষি অফিসে ভুক্তভোগী চাষিরা বার বার ধন্না দিলেও মিলছে না কোন আশ্বাস কিংবা প্রতিকার।
কেন অমৌসুমের বীজ জেনেও চাষিদের মাঝে তা বিতরণ করা হল? এমন প্রশ্ন রাখা হয় মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক বিজয় কৃষ্ণ হালদারের কাছে। তবে তিনি সদুত্তোর না দিয়ে জানান, এ জাতের পেঁয়াজ বীজ দিয়ে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের ভাল ফলন হয়েছে।



