মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালী নিয়ে বিশ্ব যখন উদ্বিগ্ন, তখন চীন বিকল্প জ্বালানি কাঠামো গড়ে তোলার দিকে জোর দিচ্ছে। দেশটি এমন একটি বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবস্থা তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতে তেলনির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিতে পারে।
এই উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে স্টেট গ্রিড করপোরেশন অব চায়না, যার নেটওয়ার্ক ইতোমধ্যে দেশের ৮০ শতাংশের বেশি অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত এবং এক বিলিয়নের বেশি মানুষকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।
চীন বর্তমানে একটি জাতীয় ‘সুপারগ্রিড’ গড়ে তুলছে, যার মাধ্যমে দেশের পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের বায়ু, সৌর ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ পূর্বাঞ্চলের শিল্পাঞ্চলে সরবরাহ করা হবে।

এ জন্য দ্রুতগতিতে আল্ট্রা-হাই ভোল্টেজ (UHV) ট্রান্সমিশন লাইন স্থাপন করা হচ্ছে, যা হাজার হাজার কিলোমিটার দূরত্বে বিদ্যুৎ পরিবহন করতে সক্ষম।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো অর্থনীতির বড় অংশকে বিদ্যুৎনির্ভর করা, জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা আনা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকটের ঝুঁকি কমানো।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে এই প্রকল্পে প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ইউয়ান (প্রায় ৫৭৪ বিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগ করা হবে।
চীনের এই উদ্যোগের ফলে হরমুজ প্রণালীর মতো তেল পরিবহন নির্ভর চোকপয়েন্টগুলোর গুরুত্ব ভবিষ্যতে কমে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাষ্ট্রীয় সহায়তায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে চীন জ্বালানি খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দিকে এগোচ্ছে।
তাদের মতে, এই সুপারগ্রিড ভবিষ্যতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াবে, শিল্প উৎপাদনকে শক্তিশালী করবে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চীনের অবস্থান আরও মজবুত করবে।





