খেলাধুলায় সাফল্য অর্জন এবং জীবনে সর্বোচ্চ সক্ষমতায় পৌঁছাতে হলে ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
তিনি বলেন, ‘জাঙ্ক ফুড পরিহার করে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি আগামী দিনের দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্বও তৈরি হবে।’
সম্প্রতি রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এ অংশ নেওয়া কিশোর-কিশোরী ক্রীড়াবিদদের জন্য আয়োজিত পুষ্টিবিষয়ক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় দি কিউব ইনস্টিটিউট সেমিনারের আয়োজন করে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘খেলাধুলা ও জীবনে নিজের সর্বোচ্চ সক্ষমতায় পৌঁছাতে হলে শরীরের সঠিক যত্ন নিতে হবে। পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী, আমাদের তরুণ ক্রীড়াবিদদের জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়া উচিত। স্কুল কিংবা অনুশীলন শেষে একটি ডিম, একটি কলা বা এক গ্লাস দুধও তাদের সুস্বাস্থ্যে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে খেলাধুলার মাধ্যমে আগামী দিনের দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করা সম্ভব। তাদের হাত ধরেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আরও সমৃদ্ধ হবে।’
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ সেমিনারে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এর ফাইনাল পর্বে উত্তীর্ণ ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রায় ৫৫০ জন কিশোর-কিশোরী ক্রীড়াবিদ অংশ নেয়। সেমিনারে শিশুদের শারীরিক বিকাশ, মানসিক সুস্থতা এবং ক্রীড়া দক্ষতা বাড়াতে সুষম খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্ব তুলে ধরেন বিশেষজ্ঞরা।
পুষ্টিবিদ ও পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ওয়েলনেস কনসালট্যান্ট ইসরাত জাহান বলেন, ‘কিশোর ক্রীড়াবিদদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফল, শাকসবজি, ডিম, মাছ, মুরগির মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত দুধ রাখা প্রয়োজন। এতে হাড় ও পেশি শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় শক্তির চাহিদাও পূরণ হয়।’
অনুষ্ঠানের নিউট্রিশন পার্টনার হিসেবে আরলা ডানো শিশুদের সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করতে নিয়মিত দুধ পানের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে। এ বিষয়ে আরলা ফুডস বাংলাদেশ লিমিটেডের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স, কমিউনিকেশন অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি বিভাগের প্রধান আনোয়ারুল আমিন বলেন, ‘সঠিক পুষ্টি ও নিয়মিত দুধ পান শিশুদের সুস্থ বৃদ্ধি, কর্মশক্তি ধরে রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করে।’
সেমিনারের শেষ পর্বে অংশগ্রহণকারী কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে ইন্টারঅ্যাকটিভ প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারা গড়ে তোলার বিষয়ে তাদের বিভিন্ন ব্যবহারিক পরামর্শ দেওয়া হয়।

