
মুম্বাই, ১৭ আগস্ট – এয়ার ইন্ডিয়ার আরও দুই পাইলট প্রাথমিক ড্রাগ টেস্ট বা মাদক পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছেন। ফুকেট থেকে দিল্লিগামী একটি ফ্লাইটে উড্ডয়নকালে হঠাৎ উচ্চতা কমে যাওয়ার ঘটনার প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষের নেওয়া বিশেষ পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এই পরীক্ষা চালানো হয়।
সাম্প্রতিক এই পরীক্ষায় মোট ৩০০ জনেরও বেশি পাইলট অংশ নেন। তাদের মধ্যে প্রাথমিক পরীক্ষায় এই দুই পাইলটের ফলাফল সন্তোষজনক হয়নি বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। সূত্র অনুযায়ী, প্রাথমিক পরীক্ষার এই ফলাফলই চূড়ান্ত নয়। সংশ্লিষ্ট পাইলটদের নমুনাগুলো অধিকতর যাচাইয়ের জন্য উন্নত পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।
চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে নিশ্চিত ফলাফল না আসা পর্যন্ত ওই দুই পাইলটকে সব ধরনের উড্ডয়ন দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গত ৪ আগস্ট ১৩৭ জন যাত্রী ও আটজন ক্রু নিয়ে এয়ার ইন্ডিয়ার এআই২৩৭৯ ফ্লাইটটি থাইল্যান্ডের ফুকেট থেকে দিল্লির উদ্দেশে উড্ডয়ন করে।
ভারতের আকাশসীমায় থাকাকালীন বিমানটি হঠাৎ করে প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। এতে বিমানের ভেতরে ক্ষণস্থায়ী ওজনহীনতার সৃষ্টি হয় এবং ২০ জন যাত্রীসহ মোট ২৪ জন আহত হন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর বিমানের পাইলটদের মাদক ও মনঃপ্রভাবক পদার্থের পরীক্ষার আওতায় আনা হয়।
এর আগে সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটের প্রধান পাইলটের শরীরে মারিজুয়ানার উপস্থিতি শনাক্ত হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে। এরপরই এয়ার ইন্ডিয়া তাদের সব পাইলটের জন্য মাদক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করে। নতুন এই নিয়ম এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের পাইলটদের জন্যও কার্যকর করা হয়েছে।
বর্তমানে ভারতের এয়ারক্র্যাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো তদন্ত করছে। এই তদন্ত প্রক্রিয়ায় ফ্রান্সের বিশেষজ্ঞ সংস্থা বিএই এবং উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস সহযোগিতা প্রদান করছে। প্রাথমিক বিশ্লেষণে বিমানটির হাইড্রলিক ব্যবস্থায় যান্ত্রিক ত্রুটির লক্ষণ দেখা গেলেও তদন্ত চলমান থাকায় পাইলটদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে।
এস এম/ ১৭ আগস্ট ২০২৬


