ঠিক এই সময়েই কৃচ্ছ্রসাধনের ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক বছর সোনা কিনো না, অহেতুক গাড়ি হাঁকিয়ে অফিস-কাছারি যেয়ো না, ওয়ার্ক ফ্রম হোম-অনলাইন ক্লাস ফের চালু করো, পাবলিক ট্রান্সপোর্টের ব্যবহার বাড়াও, রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমাও, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং ও বিদেশযাত্রা ‘নৈব নৈব চ’—ইত্যাদি যা যা তিনি শুনিয়েছেন, তাতে স্পষ্ট, আগামীর আভাস ফুরফুরে নয়।
পেট্রল-ডিজেল-গ্যাসের দাম বেড়েছে। মহার্ঘ হয়েছে দুধ, পাউরুটি, মাছ, মাংস, ডিম, সবজি। রুপির দাম হু হু করে কমছে, ডলার চড়ছে। কোষাগারে চাপ বাড়ছে। ইরান যুদ্ধ না মিটলে, হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকলে আরও অপ্রিয় হওয়া ছাড়া সরকারের উপায় থাকবে না।
কিন্তু তা সত্ত্বেও বিজয়-শুভেন্দুরা প্রতিশ্রুতি পালনে সচেষ্ট। অথচ উত্তরাধিকারসূত্রে ঋণের বিশাল গন্ধমাদন তাঁদের ঘাড়ে। কঠোর কৃচ্ছ্রসাধন করতে গেলে অপ্রিয় হতে হবে। আবার প্রতিশ্রুতি পালিত না হলে গদি রাখা দায়। প্রতিশ্রুতি পালনের অর্থ আরও ঋণের ভারে ন্যুব্জ হওয়া। এটাই সমকালীন ভারতীয় রাজনীতির ভবিতব্য।
তামিলনাড়ুর ঋণের বোঝা সবচেয়ে বেশি। মুখ্যমন্ত্রী বিজয় বলেছেন, সরকারের ভাঁড়ে মা ভবানী। কোষাগার ঢং ঢং করছে। ঋণের পরিমাণ ১০ লাখ ৭১ হাজার কোটি রুপি! যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি মানুষের মন জিতেছেন, যেমন ৬০ বছরের কম বয়সী নারীদের মাসে আড়াই হাজার রুপি, বিনা মূল্যে প্রতি পরিবারে বছর ছয়টা করে রান্নার গ্যাস, মাসে ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ ফ্রি, গরিবদের মেয়ের বিয়েতে ৮ গ্রাম সোনা ও সিল্কের শাড়ি, সিনিয়র সিটিজেন ও ভিন্নভাবে সক্ষমদের মাসিক তিন হাজার টাকা পেনশন—স্রেফ এগুলো মেটাতে বছরে লাগবে বাড়তি ১ লাখ ২২ হাজার কোটি রুপি!



