ডেনমার্কে কেউ এককভাবে জয়ী নয়, জোট সরকার গঠনে অনিশ্চয়তা | চ্যানেল আই অনলাইন

ডেনমার্কে কেউ এককভাবে জয়ী নয়, জোট সরকার গঠনে অনিশ্চয়তা | চ্যানেল আই অনলাইন

ডেনমার্কের জাতীয় নির্বাচন শেষে স্পষ্ট হয়েছে যে, কোনো দলই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে দেশটিতে নতুন সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে এবং জোট গঠনের আলোচনা এখন কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনের নেতৃত্বাধীন সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস পার্টি সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তারা ২১ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট পেয়ে ৩৮টি আসন অর্জন করেছে। তবে এটি আগের নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম, যেখানে দলটি ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেয়ে ৫০টি আসন পেয়েছিল।

অন্যদিকে, সোশ্যালিস্ট পিপলস পার্টি ২০টি আসন, ডানপন্থী ভেনস্ট্রে (লিবারেল পার্টি) ১৮টি আসন এবং লিবারেল অ্যালায়েন্স ও ডেনিশ পিপলস পার্টি প্রতিটি ১৬টি আসন অর্জন করেছে। ফলাফলে আরও দেখা যায়, বামঘেঁষা ‘রেড ব্লক’ মোট ৮৪টি আসন পেয়েছে, আর ডানঘেঁষা ‘ব্লু ব্লক’ পেয়েছে ৭৭টি আসন। কিন্তু দেশটির পার্লামেন্ট ফোকেটিংয়ে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৯০টি আসন, যা কোনো পক্ষই অর্জন করতে পারেনি।

এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রপন্থী মডারেটস পার্টি, যার নেতৃত্বে রয়েছেন লার্স লক্কে রাসমুসেন, গুরুত্বপূর্ণ ‘কিংমেকার’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। দলটি ১৪টি আসন পেয়ে সম্ভাব্য জোট গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নির্বাচনের পর প্রতিক্রিয়ায় মেতে ফ্রেদেরিক্সেন বলেন, তিনি দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত এবং অন্য দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সরকার গঠনের চেষ্টা করবেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, এই প্রক্রিয়া সহজ হবে না।

এদিকে ভেনস্ট্রে পার্টির নেতা ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ট্রয়েলস লুন্ড পাউলসেন স্পষ্ট জানিয়েছেন, তারা সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটসের সঙ্গে পুনরায় জোটে যেতে আগ্রহী নন। এতে করে জোট গঠনের আলোচনা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

৪৮ বছর বয়সী ফ্রেদেরিক্সেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন এবং কঠোর অভিবাসন নীতির জন্য পরিচিত। নির্বাচনের আগে তিনি আগাম ভোটের ডাক দেন, যাতে তার নেতৃত্বের দৃঢ়তা ভোটারদের কাছে তুলে ধরা যায়। তবে এবারের নির্বাচনে জীবনযাত্রার ব্যয়, পেনশন এবং সম্পদকর ইস্যু বড় প্রভাব ফেলেছে।

ডেনমার্কের বহুদলীয় সংসদীয় ব্যবস্থায় সাধারণত জোট বা সংখ্যালঘু সরকারই গঠিত হয়। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে আগামী কয়েক সপ্তাহের জোট আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই আলোচনা নির্ধারণ করবে, মেটে ফ্রেডেরিকসেন তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন কি না।

Scroll to Top