
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে নিজ বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে পাওয়া ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির এক সাবেক শিক্ষার্থী।
রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ওই শিক্ষার্থীর নাম-এ আর তাহসীন জাহান। একাডেমিক ইয়ার ২০২৩।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে ওই শিক্ষার্থী বলেন, চার বছরের স্নাতকজীবনের শুরু থেকেই তিনি ডিনস অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার দিনের জন্য অপেক্ষা করেছিলেন। অসংখ্য নির্ঘুম রাত ও কঠোর পরিশ্রমের পর এই স্বীকৃতি অর্জন করলেও শেষ পর্যন্ত তা গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি বলেন, কোন পুরস্কারের মর্যাদা তার কাছে একটি প্রতিষ্ঠানের নৈতিক দায়বদ্ধতার ঊর্ধ্বে নয়। তার অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও মতাদর্শের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থী শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এসব ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কার্যকর ভূমিকা পালন করেনি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ওই শিক্ষার্থী বলেন, ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তিনি মবের আক্রমণের শিকার হন। কোনো ধরনের সহিংসতার সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকা সত্ত্বেও নিজের বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে হুমকির মুখে পড়েছিলেন। তাকে ফাইনাল ভাইভায় অংশ নিতে এবং স্নাতক থিসিস জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
শারীরিক নিরাপত্তার কারণে একপর্যায়ে ক্যাম্পাসে ফিরতে না পারলেও বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক তার শিক্ষার অধিকারের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন বলে জানান তিনি। তাদের সহযোগিতায় নিরাপদ স্থান থেকে অনলাইনে ফাইনাল ভাইভায় অংশ নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করতে পেরেছেন বলে জানান ওই শিক্ষার্থী।
তিনি বলেন, যেসব শিক্ষক আমাকে এত দূর আসতে সাহায্য করেছেন, তাদের প্রতি আমার অপরিসীম শ্রদ্ধা। আমার অর্জনের পেছনে তাদের অবদান রয়েছে এবং সেই কৃতিত্ব তাদের প্রাপ্য।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে তার মতো ১০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী এখনও নিজেদের শিক্ষাজীবন স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাননি।
তার দাবি, সরকার পতনের পর যদি সত্যিই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়ে থাকে, তাহলে এই হাজার হাজার শিক্ষার্থী এখনও কেন নিজেদের ক্লাসরুমে ফিরতে পারছে না?
বক্তব্যে তিনি তোফাজ্জল, মাসুদ ও শামীমসহ কয়েকজনের মৃত্যুর প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। এসব ঘটনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায় রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তকে কোন পুরস্কারকে ছোট করার চেষ্টা নয় বলেও উল্লেখ করেন ওই শিক্ষার্থী। বরং রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে শিক্ষার অধিকার হারানো সহপাঠীদের প্রতি সংহতি জানাতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, ন্যায়বিচার যদি সবার জন্য না হয়, তবে সেটি ন্যায়বিচার নয়।
পাশাপাশি অন্যায়ের পরিবর্তে আরেকটি অন্যায়কে বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…