প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
বুধবার দিবাগত গভীর রাতে রাজধানীর মিরপুরের ডিওএইচএসের বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান শফিকুল ইসলাম চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
তবে কোন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাৎক্ষিনকভাবে জানাননি তিনি।
গোয়েন্দা পুলিশের আরেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বৃহস্পতিবার শেখ মামুন খালেদকে আদালতে পাঠানো হবে। বর্তমানে রাজধানীর মিন্টো রোড ডিবি কার্যালয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ডিজিএফআইকে রাজনৈতিক কাজে সম্পৃক্ত করা, জঙ্গি নাটকের প্রবক্তা, দুর্নীতি মাধ্যমে জলসিড়ি আবাসনের শতকোটি টাকা আত্মসাৎ, আয়না ঘরের রূপকার এবং সজীব ওয়াজেদ জয়ের ক্ষমতা অপব্যবহার করে হাজার কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেন লে. জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ।
গত বছরের মে মাসে শেখ মামুন খালেদ, তার স্ত্রী নিগার সুলতানা খালেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেওয়া হয়।
নিষেধাজ্ঞার আবেদনে বলা হয়েছে, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লে. জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে শেয়ার ব্যবসা করাসহ ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎপূর্বক নিজ নামে ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অনুসন্ধান চলমান। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদ্বয় দেশ ছেড়ে বিদেশে পলায়ন করতে পারেন মর্মে অনুসন্ধানকালে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়। অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা একান্ত প্রয়োজন।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ ডিজিএফআইয়ের পরিচালকের পদে ছিলেন ডিসেম্বর ২০০৭ থেকে ডিসেম্বর ২০১০ পর্যন্ত। একই সংস্থার মহাপরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন ২৩ জুন ২০১১ থেকে ৭ মার্চ ২০১৩ পর্যন্ত।
অনেকেরই অভিযোগ, শেখ হাসিনার ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট সরকার কায়েমে তারও ভূমিকা ছিল।





