ঠিকাদারকে তুলে নেওয়ার হুমকি, ছাত্রদল নেতার কলরেকর্ড ভাইরাল | চ্যানেল আই অনলাইন

ঠিকাদারকে তুলে নেওয়ার হুমকি, ছাত্রদল নেতার কলরেকর্ড ভাইরাল | চ্যানেল আই অনলাইন

কিশোরগঞ্জের ‎অষ্টগ্রামে নির্মাণাধীন ব্রিজ দিয়ে গাড়ি দিয়ে চলাচল করতে না দেওয়ায় ব্রিজের ঠিকাদারের ম্যানেজারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও এলাকা থেকে তুলে নেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আল মাহমুদ মোস্তাকের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনার একটি অডিও কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে ১ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের একটি অডিও কল রেকর্ড ফেসবুকে ফাঁস হয়। মুহূর্তেই বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে। পরে হাজার হাজার মানুষ অডিওটি ক্লিপটি ফেসবুকে শেয়ার করে। এই কল রেকর্ড নিয়ে উপজেলাজুড়ে চলছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা।

ভাইরাল অডিও কল রেকর্ডে শোনা যায়, ছাত্রদল নেতা মোস্তাক অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় ঠিকাদারের ম্যানেজারকে শাসাচ্ছেন। এসময় তাকে বলতে শোনা যায়, ‘ব্রিজ ভাঙলেও গাড়ি যাইব, গাড়ি ছাড়!’

ঠিকাদারের ম্যানেজার যখন কাজ চলমান থাকার কারণে গাড়ি চলাচলে অপারগতা প্রকাশ করেন, তখন মোস্তাক তাকে এলাকা থেকে ‘‘তুলে নিয়ে যাওয়ার’’ এবং ‘‘দেখে নেওয়ার’’ হুমকি দেন।

‎অডিওতে মোস্তাককে বলতে শোনা যায়, ‘‘তুই আমার এলাকায় থাকস, আমার এলাকায় কাজ চলতাছে না কি চলতাছে হেইডা আমি দেখতাম না। গাড়ি ছাড়বি, না হয় তোরে একবারে টুডি (ঘাড়) ধইরা নিয়া যামু।‎’’

অন্যপ্রান্তে ঠিকাদারের ম্যানেজারকে বলতে শোনা যায়, কাজ চলাকালীন ব্রিজ দিয়ে গাড়ি চললে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এবং ব্রিজের ক্ষতি হতে পারে।

তবে মোস্তাক সেই যুক্তি তোয়াক্কা না করে বারবার তাকে গালিগালাজ ও শারীরিক লাঞ্ছনার হুমকি দিতে থাকেন। ‎

রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে উন্নয়নকাজে বাধা এবং ঠিকাদারের ম্যানেজারকে হুমকির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারের ম্যানেজার রাকিব বলেন, আমরা এখানে উন্নয়নমূলক সরকারি কাজ করতে আইছি। আমরা শ্রমিক অইলেও (হলেও) এই এলাকার মেহমান আমরারে (আমাদেরকে) এভাবে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা বা হুমকি দেওয়ার বিষয় আমাদেরকে খুব কষ্ট দেয়। পরিবার, ছেলে, মেয়ে রাইক্কা (রেখে) আসছি এখানে কাম (কাজ) করার জন্য। কাম (কাজ) কইরা ছেলে মাইয়ার মুখে খাওন (খাবার) তুলে দিমু। এখন যদি স্থানীয় নেতারা আমরারে হুমকি দেই তাইলে তো আমরা কাম (কাজ) করতে পারমু না। কাম করতে আইসা নিজের জীবন হুমকিতে আছে। এহন ঠিকাদারকে জানাইছি দেহি (দেখি) উনি কি করে।

উপজেলার পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়নের বাধাঘাট ব্রিজে গাড়ি পারাপার নিয়ে এই ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

জানতে চাইলে উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আল মাহমুদ মোস্তাক বলেন, ঘটনা হলো আমি অন্য একজনের গাড়ি পার করার জন্য উনার কাছে ফোন দিছিলাম। আমার এলাকারই এক হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক। তিনি তার বোনের বাড়ি থেকে ধান নিয়ে আসছে তখন খেয়াঘাট দিয়ে পার করলে নাকি ঝামেলা। পরে ওই ম্যানেজারের কাছে গেছে অটোটা পার করার জন্যে বলেছিলাম। ম্যানেজার প্রথমে না করছে, কিন্তু পরে অটো পার করার জন্য টাকা চাইছে। পরে ও টাকা দেয় নাই। টাকা না দিয়ে আমার কাছে ফোন দিছে। পরে আমি তাকে ফোন দিয়ে বলছি, ভাই আমার এলাকার গরীব লোক, একটু ব্রিজটা পার কইরা দিয়েন। ও বলতেছে, ভাই আপনে কেডা? আপনার কথায় আমি ব্রিজ পার করে দিমু? এই সেই। আমার সঙ্গে তার ১০ মিনিট কথা হইছে। কিন্তু ওই ১ মিনিটের মতো যে জায়গাটার মধ্যে একটু উত্তেজিত অবস্থা, শুধু ওই জায়গাটুকুই উনি রেকর্ড করছে।

‎এ বিষয়ে অষ্টগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তিতুমীর হোসেন সোহেলের সাথে কথা হলে তিনি জানান, বিষয়টি আমি ফেসবুকে দেখে সাথে সাথে মোস্তাকের মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও সে ফোন রিসিভ করেনি।

Scroll to Top