মাস্ক যে লক্ষ্য ঠিক করেছেন, তা বাস্তবায়ন করা প্রায় অসম্ভব। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার সময় বলেছিলেন, তিনি ফেডারেল ব্যয়ের ৬ দশমিক ৭৫ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে ২ ট্রিলিয়ন ডলার ছেঁটে ফেলবেন, যা কিনা পুরো ঐচ্ছিক বাজেটের (ঐচ্ছিক বাজেট হলো যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের সেই বাজেটের অংশ, যা কংগ্রেস প্রতিবছর নতুন করে অনুমোদন দেয় এবং পরিবর্তন করতে পারে। এই বাজেট থেকে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়) চেয়েও বেশি।
ইলন মাস্কের মূল উদ্দেশ্য পরিষ্কার, তা হলো একটি কঠোর ব্যয় সংকোচন। আর এটি করা হলে বেশির ভাগ আমেরিকান মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বেন।
যদি মাস্কের পরিকল্পনা সফল হয়, তাহলে তা মানুষের জীবন ও প্রকৃতির ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা বোঝার জন্য আর্জেন্টিনার দিকে তাকালেই হবে। সেখানে এক বছর ধরে একই ধরনের একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সেখানে প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই আন্তর্জাতিক পুঁজিপতিদের স্বার্থ রক্ষায় শ্রেণিযুদ্ধ চালাচ্ছেন। ফলাফল? দারিদ্র্যের ভয়াবহ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যবিমা হারানো মানুষের সংখ্যা মারাত্মকভাবে বেড়ে যাওয়া, সরকারি স্বাস্থ্য খাতে তহবিল–সংকট, বিদ্বেষমূলক অপরাধের ব্যাপক বিস্তার, বিজ্ঞান ও পরিবেশ সংরক্ষণের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা এবং বিদেশি কোম্পানিগুলোর জন্য দেশের খনিজ সম্পদ, জমি ও শ্রম দখলের অবাধ সুযোগ।
মাস্ক ও রামাস্বামী যে ব্যাপক ব্যয় সংকোচন ও নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার পরিকল্পনা করছেন, তা বর্তমানে ইউরোপ ও আমেরিকায় জনতুষ্টিবাদী ‘নিষ্ঠুর রাজনীতির’ অংশ। এই নীতিতে শাসকের কাছে জনতার দুর্ভোগ কোনো বিষয় নয়। সেখানে সরকারের সমর্থকেরা ততক্ষণ খুশি থাকবে, যতক্ষণ তাদের শত্রুরা—বিশেষ করে অভিবাসীরা—আরও বেশি কষ্ট পেতে থাকবে। মাস্ক নিজেও এই ঘৃণার রাজনীতির একজন নেতা। তিনি দেখিয়েছেন, ভোটাররা আসলে কেমন আছেন, তা তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং তাঁরা অন্য গোষ্ঠীর তুলনায় কতটা ভালো আছেন, সেটাই মুখ্য।