ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর দ্বন্দ্বে কি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটে ফাটল ধরছে? – DesheBideshe

ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর দ্বন্দ্বে কি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটে ফাটল ধরছে? – DesheBideshe


ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর দ্বন্দ্বে কি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটে ফাটল ধরছে? – DesheBideshe

ওয়াশিংটন, ৬ জুলাই – দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্ককে অন্যতম শক্তিশালী কৌশলগত জোট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওয়াশিংটনের সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহায়তা প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।

তবে বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে প্রকাশ্য মতপার্থক্য ও কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। দুই দেশের দীর্ঘদিনের অটুট বন্ধনে কি সত্যিই ফাটল ধরছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

বিশ্লেষকদের মতে, সম্পর্কের এই টানাপোড়েন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে তীব্র হলেও এখনই বিচ্ছেদের সম্ভাবনা ক্ষীণ। বর্তমানে দুর্নীতির মামলায় জর্জরিত নেতানিয়াহু অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর পাশাপাশি দণ্ড পাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে তার।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি এবং দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেল আবিবের বিরোধ স্পষ্ট হয়েছে। তেহরান দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের শর্ত দেওয়ায় এই মতবিরোধ নতুন মাত্রা পেয়েছে। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া এক ফোনালাপে দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্কের অবনতি প্রকাশ্যে আসে।

হোয়াইট হাউস এখন পর্যন্ত ওই ফোনালাপের সত্যতা অস্বীকার করেনি। সেখানে দেখা যায়, লেবাননে যুদ্ধ বন্ধে অনীহা দেখানোয় নেতানিয়াহুকে ভর্ৎসনা করেছেন ট্রাম্প। এমনকি ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, নেতানিয়াহুর কর্মকাণ্ডের কারণে বর্তমানে ইসরায়েল বিশ্বজুড়ে জনরোষের মুখে পড়ছে।

ট্রাম্পের এমন কঠোর অবস্থান তার রাজনৈতিক অনুসারীদের মধ্যেও প্রভাব ফেলেছে। রিপাবলিকান পার্টির একটি অংশ এখন ইসরায়েলকে নিঃশর্ত সমর্থনের প্রকাশ্য বিরোধিতা করছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও নেতানিয়াহুর পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

বিরোধী দলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ দাবি করেছেন, বর্তমান সরকারের ভুল নীতির কারণে ইসরায়েল আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে হয়ে পড়ছে। তবে এত চাপের মুখেও বিশ্লেষক অ্যারন ডেভিড মিলার মনে করেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করবে এমন কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই।

বরং ট্রাম্প হয়তো বিশেষ কোনো কূটনৈতিক সাফল্যের জন্য ইসরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগ করছেন। অধিকাংশ আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মনে করেন, চূড়ান্ত বিচ্ছেদ না হলেও এই জোটের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

এস এম/ ৬ জুলাই ২০২৬



Scroll to Top