ট্রাম্পের সবুজ সংকেত পেলেই ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে বড় হামলার প্রস্তুতি! মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে – DesheBideshe

ট্রাম্পের সবুজ সংকেত পেলেই ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে বড় হামলার প্রস্তুতি! মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে – DesheBideshe


ট্রাম্পের সবুজ সংকেত পেলেই ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে বড় হামলার প্রস্তুতি! মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে – DesheBideshe

ওয়াশিংটন, ২৬ অক্টোবর – ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বৈরিতা নতুন মোড় নিয়েছে। একের পর এক মার্কিন হুমকি ও অর্থনৈতিক চাপ সত্ত্বেও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছে তেহরান। এর মধ্যেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশ পাওয়ার মাত্র ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে মার্কিন বাহিনী।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর গত রোববারের (২৫ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানে বড় পরিসরে সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো কোনো চূড়ান্ত বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরই তিনি এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য সংঘাতের নেপথ্য সমীকরণ

  • মার্কিন সেনা প্রস্তুতি: ট্রাম্পের নির্দেশ পেলেই ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে হামলা।
  • ইসরায়েলের চাপ: ওয়াশিংটনকে সঙ্গে নিয়ে ইরানে হামলার জোরালো তাগিদ।
  • ট্রাম্পের কৌশল: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বড় সংঘাত এড়ানো।
  • তেহরান-হুথি হুঁশিয়ারি: যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাতের আশঙ্কা।

হামলার নেপথ্য সমীকরণ ও ইসরায়েলের ভূমিকা

সিএনএন-কে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতি কেবল ওয়াশিংটন আর তেহরানের দ্বিপক্ষীয় উত্তেজনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে ইসরায়েলও।

ইসরায়েলের চাপ: একটি সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েল নিজে থেকেই ইরানে হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং একই সঙ্গে সম্ভাব্য এই সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি সম্পৃক্ত করতে ওয়াশিংটনের ওপর তীব্র কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে চলেছে।

নির্বাচনী সমীকরণ: ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও এক্ষেত্রে একটি বড় নিয়ামক। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে বড় ধরনের কোনো সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিতে চাইছে না ট্রাম্প প্রশাসন। সে কারণেই আপাতত ইসরায়েলকেও হামলা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে মার্কিন নেতৃত্ব।

আগের হামলার চেয়ে বড় পরিসর: যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, অতীতে ইরানের যে সমস্ত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা বা রাডার কেন্দ্রগুলোতে সীমিত হামলা চালানো হয়েছিল, তেহরান সেগুলোকে দ্রুত পুনর্নির্মাণ করে নিয়েছে। ফলে এবারের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপটি আগের যেকোনো অভিযানের তুলনায় বহুগুণ বড় এবং ধ্বংসাত্মক হবে বলে পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম আতঙ্ক ও মার্কিন দূতাবাসগুলোতে সতর্কতা

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে এই হামলার পরিকল্পনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে ইরান ও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যদি শেষ পর্যন্ত ইরানে বড় কোনো সামরিক আগ্রাসন চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনা সদস্য এবং কৌশলগত সামরিক স্থাপনাগুলোতে তাৎক্ষণিক ও মারাত্মক পাল্টা হামলা চালাতে পারে তেহরান ও তার মিত্ররা।

এই সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলো থেকে অতিরিক্ত কর্মী বা কূটনীতিকদের সরিয়ে নেওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে গোয়েন্দা মূল্যায়নের সঙ্গে যুক্ত কিছু কর্মকর্তা মনে করছেন, পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল নিজেরা চূড়ান্ত আঘাত হানার আগে ইরান বা হুথিরা খুব দ্রুত নিজে থেকে আগেভাগে কোনো বড় অবকাঠামোয় হামলা চালাবে না।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা মার্কিন প্রশাসন সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে পেন্টাগনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্পষ্ট করেছেন যে, যেকোনো সামরিক বিকল্প তৈরি রাখা এবং কমান্ড পেলে তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের মূল দায়িত্ব।

মধ্যপ্রাচ্যের এই ঘনঘটা সংঘাত কি বিশ্ব অর্থনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে বড় কোনো বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিতে চলেছে? আপনার মতামত কী? কমেন্টে জানান!

এনএন/ ২৬ অক্টোবর ২০২৬

Scroll to Top