তুরস্কে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগে কয়েক হাজার কোটি ডলারের নতুন অস্ত্র ক্রয় ও প্রতিরক্ষা বিনিয়োগের উদ্যোগ ঘোষণা করেছে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো। ইউরোপের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার এবং যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ব্যয় ভাগাভাগির আহ্বানে সাড়া দিতেই এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আজ (৮ জুলাই) বুধবার অনুষ্ঠিত হবে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের মূল বৈঠক। এদিকে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট এবং জোটভুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা আঙ্কারায় পৌঁছেছেন। সম্মেলনের আগে তাদের সম্মানে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।
চলমান সম্মেলনে ইউরোপের নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি, ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং জোটের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় প্রতিরক্ষাশিল্প ফোরামের এক অনুষ্ঠানে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে বড় পরিসরে অস্ত্র সংগ্রহ ও সামরিক বিনিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রথম দিনের বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দিতে কয়েকটি ইউরোপীয় মিত্র দেশ যথেষ্ট ভূমিকা রাখেনি। একই সঙ্গে তিনি আবারও দাবি করেন, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের জবাবে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, মিত্র দেশগুলো ডেনমার্কের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করবে বলেই তিনি বিশ্বাস করেন এবং গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়। একই ধরনের অবস্থান জানিয়ে আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টরুন ফ্রস্টাডোত্তির বলেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার কেবল সেখানকার জনগণের।
অন্যদিকে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এই কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রতিক্রিয়া প্রয়োজনীয় ছিল।



