যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের নতুন মুখপাত্র বা প্রেস সচিব হিসেবে রক্ষণশীল ধারার ভাষ্যকার কেটি জাকারিয়ার নাম ঘোষণা করেছেন।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন। ট্রাম্প কেটির প্রতি নিজের আস্থার কথা জানিয়ে তার সমর্থন ও আনুগত্যের প্রশংসা করেন।
ট্রাম্প লিখেছেন, শুরু থেকেই কেটি তার একজন বিশ্বস্ত ও মেধাবী সমর্থক। তার সমর্থনের রেকর্ডও প্রশ্নাতীত। কেটি ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ আন্দোলনেরও নিবেদিত সমর্থক। নতুন মুখপাত্র হিসেবে তিনি দেশের জন্য ভালো ফল বয়ে আনবেন বলে আশা প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তার ভাষ্য, সংবাদমাধ্যম, মার্কিন জনগণ ও প্রশাসনের সঙ্গে কেটির ভালো সম্পর্ক রয়েছে এবং তিনি সবার সঙ্গে চমৎকারভাবে কাজ করতে পারবেন।
ট্রাম্প কেটিকে শুভকামনাও জানিয়েছেন। এর আগে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছিল, তাকে এ পদে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
গত আগস্টের শেষ দিকে ক্যারোলিন লিভিট দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্রের পদটি শূন্য ছিল। গত ৩ সেপ্টেম্বরের পর হোয়াইট হাউসের জেমস এস ব্র্যাডি সংবাদ সম্মেলনকক্ষেও সাংবাদিকদের জন্য আর কোনো নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। সেদিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন।
নতুন দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেটি লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তির গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও মার্কিন জনগণের সেবা করার সুযোগ তার জীবনের অন্যতম বড় সম্মান।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের প্রতিদিনের অর্জনগুলো মার্কিন জনগণের সামনে তুলে ধরা এবং দেশের জন্য ভালো ফল নিশ্চিত করার কাজ এগিয়ে নেওয়াই হবে তার লক্ষ্য। হোয়াইট হাউসের সাংবাদিকদের পাশাপাশি সারা দেশের সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।
সাবেক মুখপাত্র ক্যারোলিন লিভিটের প্রশংসা করে কেটি বলেন, তার উত্তরসূরি হওয়া বড় একটি মানদণ্ড পূরণের মতো বিষয়। তবে সেই মানদণ্ড অর্জন করার মতো কাজ করতে তিনি প্রস্তুত।
ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসকারী কেটি জাকারিয়া পেপারডাইন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও আইনে ডিগ্রি অর্জন করেছেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগে অল্প সময়ের জন্য মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেন। বর্তমানে তিনি ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এর জ্যেষ্ঠ যোগাযোগ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও ট্রাম্পকে সহায়তা করেছিলেন তিনি।
ট্রাম্পের প্রতি নিজের সমর্থনের কথা আগেও প্রকাশ্যে জানিয়েছেন কেটি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নিউইয়র্ক পোস্টে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে তিনি স্থানীয় একটি ব্যায়ামাগারে ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ লেখা টুপি পরা নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
কেটির ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যায়ামাগারটির মালিক শেষ পর্যন্ত তাকে ওই টুপি না পরার অনুরোধ জানান। জবাবে কেটি লিখেছিলেন, বামপন্থীদের সন্তুষ্ট করতে তিনি কখনোই ট্রাম্পের টুপি খুলবেন না। তার মতে, এটি প্রকাশ্য অসহিষ্ণুতার উদাহরণ এবং ব্যায়ামাগারের দরজায় এসে বাকস্বাধীনতার অধিকার শেষ হয়ে যায় না।
তিনি আরও লিখেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে অস্বস্তির কারণে বাকস্বাধীনতা সীমিত করার কোনো বিধান নেই। তবে সংবিধানের এই সংশোধনী মূলত সরকারের পক্ষ থেকে মতপ্রকাশে বাধা দেওয়ার বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়; বেসরকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে একই সুরক্ষা সরাসরি প্রযোজ্য নয়।
সূত্র: সিবিএস নিউজ




