
পটুয়াখালী, ২৮ ফেব্রুয়ারি – পটুয়াখালী পৌর শহরের মধ্য কলাতলা এলাকার তরুণ শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান প্রিন্স রঙিন মাছ চাষ করে নিজের ভাগ্য বদলে ফেলেছেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করে সংসার চালানো প্রিন্স এখন একজন সফল উদ্যোক্তা। শখের বশে জমানো টাকায় দুই জোড়া বেট্টা ফিশ কিনে তাঁর এই যাত্রার শুরু হয়েছিল।
শুরুতে ব্যর্থ হলেও ইউটিউব দেখে ও বই পড়ে জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে ২০২৩ সালের শুরুতে তিনি সফলভাবে মাছের রেণু ফোটান। তাঁর ঝুপড়ি ঘরের পেছনের ছোট খামারটি এখন গোল্ডফিশ কমেট কই কার্প মলি ও অ্যাঞ্জেলসহ নানা প্রজাতির অর্নামেন্টাল ফিশের এক বিশাল ভাণ্ডার। প্রিন্সের খামারে বর্তমানে দুই হাজার ব্রুড সাইজ ফাইটার ও আট হাজার সেমি এডাল্ট মাছ রয়েছে। এছাড়া রয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার গাপ্পি মাছ।
বাজারদর অনুযায়ী বর্তমানে তাঁর খামারে প্রায় ছয় লাখ টাকার মাছ রয়েছে। কাঠের চৌবাচ্চা ইটের ট্যাংক কক্স সিড ট্যাংক ও গামলা দিয়ে সাজানো এই খামারে প্রতিদিন হাজার হাজার পোনা বড় হচ্ছে। প্রিন্স জানান গাপ্পি মাছের যত্ন কম নিতে হয় এবং লাভ বেশি। ডাফনিয়া ও মাইক্রোওয়ার্মের মতো সহজলভ্য খাবারেই এই মাছ বেড়ে ওঠে। রেডটেইল প্লাটিনাম ডাম্বো ইয়ার রেড মস্কো ও রেড ড্রাগনসহ বিভিন্ন জাতের মাছ তাঁর খামারে উৎপাদিত হচ্ছে।
একসময় আর্থিক অনটনে দিন কাটানো প্রিন্স এখন প্রতি মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় করছেন। তাঁর খামারের মাছ সাভার মিরপুর কুষ্টিয়া রংপুর রাজশাহী ঝিনাইদহ ও নেত্রকোনা সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাইকারি দরে সরবরাহ করা হচ্ছে। মাসিক খরচ তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় লাভের অংশই বেশি থাকে।
ছেলের এই সাফল্যে বাবা আব্দুল মান্নান গাজীও অত্যন্ত আনন্দিত। স্থানীয় তরুণ উদ্যোক্তা মেহরাব হোসেন ইমন জানান প্রিন্সের সাফল্য দেখে ইমরান ও জাকির নামের আরও দুই তরুণ এই পেশায় এগিয়ে এসেছেন।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অনুষদের অধ্যাপক ড. রাজীব সরকার মনে করেন রঙিন মাছ চাষ উপকূলীয় অঞ্চলের তরুণদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় ক্ষুদ্র উদ্যোগ।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন শহরের তরুণরা এখন রঙিন মাছ চাষের দিকে ঝুঁকছেন এবং মৎস্য বিভাগ তাঁদের প্রশিক্ষণসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।
এম ম/ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬





