টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার অন্তত ৭০ গ্রামের প্রায় ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ঝুঁকি বাড়ছে পাহাড়ে বসবাসকারীদের জন্য। তাদের সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে।
সোমবার (৭ জুলাই) দুপুরে কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, আজ বেলা ১২টা পর্যন্ত গত ৩০ ঘন্টায় ২২৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, রবিবার সকাল ৬টা থেকে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৪৬ মিলিমিটার। সকাল ৬টা থেকে বেলা ১২ পর্যন্ত আরও ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। ভারী বৃষ্টি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, কক্সবাজারে গত ৪ দিন থেকে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। ভারী বৃষ্টিপাতে টেকনাফে অন্তত ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে কম হলেও ৫০ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
টেকনাফ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান বলেন, টেকনাফ সদরের ৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এগুলো হল মহেশখালীয়া পাড়া, নতুন পাল্লান পাড়া, তুলাতুলি, লেঙ্গুরবিল, খোনকারপাড়া, মাঠপাড়া ও রাজারছড়া, জাহাঁলিয়া পাড়া।
টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, হ্নীলা ইউনিয়নের ১২টি গ্রামের চার হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। গ্রামগুলোর চলাচলের রাস্তা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় সেখানেও যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহেসান উদ্দিন বলেন, ভারী বর্ষণের ফলে কিছু গ্রামে মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। আমরা তাদের খোঁজ-খবর নিচ্ছি। পাশাপাশি পাহাড় ধসের শঙ্কা রয়েছে। তাই সকাল থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের অন্যত্র সরে যেতে বলা হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্র গুলোকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
অপরদিকে উখিয়ায় এই বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কমপক্ষে ২০ টি গ্রামে ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে বীজ তলা ও পানের বরজ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি গ্রামীণ রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ সালাহউদ্দিন বলেন, অব্যাহত ভারি বর্ষণের ফলে পাহাড় ধসের ঝুঁকি রয়েছে। তাই পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। উখিয়া টেকনাফের পানিবন্দী হয়ে পড়া মানুষগুলোর খোঁজখবর নিতে উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল হোসেন চৌধুরী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে ভরাট ড্রেন সরেজমিনে পরিস্কার করেন।






