ঢাকায় এসে পিনু শুনলেন সুলতানা কামাল ও সাঈদা কামাল আগরতলায়। পিনুও আগরতলায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তখন মেজ ভগ্নিপতি হাশেম খান বললেন, ‘দেখো, তোমরা সবাই যদি চলে যাও তাহলে কেমনে হবে। দেশেও তো কাজ করার লোক দরকার।’ পিনু বললেন, ‘এখানে থেকে আমি কী করব?’ হাশেম খান বললেন, ‘এখানে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অনেক কাজ করার আছে।’ পিনু বিভিন্ন বাড়ি গিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য টাকা ও পোশাক সংগ্রহ করতে লাগলেন। বড় বোন তাঁকে বলতেন, ‘যদি ভুল করে কোনো স্বাধীনতাবিরোধী লোকের বাড়িতে ঢুকে যাও, তখন তোমার কী হবে ভেবে দেখেছ?’ পিনু বলতেন, ‘আমার কোনো ডরভয় কাজ করে না বুবু।’ পিনুর ছোট ভাই সানাউল হক ছিলেন ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের ছাত্র। তিনি ভালো উর্দু বলতে পারতেন। ছোট ভাইকে নিয়ে পিনু প্রায়ই নিউমার্কেটে যেতেন, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ওষুধ কিনতে। নিউমার্কেটে মিলিশিয়াদের বেশ আনাগোনা। লম্বা ও ফরসা পিনু পাকিস্তানি পোশাক পরতেন। ফলে মিলিশিয়ারা তাঁকে পাকিস্তানি ভেবে কিছু বলতেন না। পিনু যা সংগ্রহ করতে পারতেন, তা পৌঁছে দিতেন হাশেম খানের গোপীবাগের বাসায়। হাশেম খান সেগুলো কোথায় পাঠাতেন, তা পিনু জানতেন না। তবে স্বাধীনতার পরে জেনেছেন, এসব জিনিস তিনি সুরকার আলতাফ মাহমুদের বাসায় পৌঁছে দিতেন।
স্বাধীনতার পর ইংল্যান্ডে পড়তে যান পিনু। আড়াই বছর পর সেখানকার পড়াশোনা তাঁর ভালো লাগল না। দেশে ফিরে আবার ভর্তি হলেন চারুকলায়। পড়াশোনা শেষে যোগ দিলেন উদয়ন স্কুলে। ১৯৮০ সালে যোগদান করলেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের শিল্প নির্দেশনা বিভাগে। ২০১০ সালে নেন অবসর। টাইম ম্যাগাজিনের সেই সাহসী তরুণী এখন অনেকটা অন্তরালে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।



