জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় আরও ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির অনুমোদন – DesheBideshe

জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় আরও ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির অনুমোদন – DesheBideshe


জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় আরও ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির অনুমোদন – DesheBideshe

ঢাকা, ৮ এপ্রিল – ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় আরও ৩ লাখ টন পরিশোধিত ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এই নীতিগত অনুমোদনের কথা জানানো হয়।

জাতীয় সংসদে কমিটির একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে দেশব্যাপী চাপ সৃষ্টি হয়। পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। বিশ্ববাজারেও তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায় এবং সরকার মে মাসে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির চিন্তাভাবনা শুরু করেছিল। তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে সম্মত হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে।

যদিও গত ২৮ ফেব্রুয়ারির আগে তেলের দাম প্রায় ৭০ ডলার ছিল, যা বর্তমান মূল্যের চেয়ে কম। সংকটের মধ্যে গত শনিবার কাজাখস্তান থেকে এক লাখ টন পরিশোধিত ডিজেল আমদানির অনুমোদন দেয় ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

জ্বালানি মন্ত্রণালয় উদ্ভূত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাজাখস্তান ও ওমান থেকে মোট ১৭ লাখ টন তেল আমদানির প্রস্তাব করেছিল। এর মধ্যে এক লাখ টন আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয় এবং বাকি ১৬ লাখ টন প্রয়োজন অনুযায়ী কেনা হবে বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার আরও ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির অনুমোদন পাওয়া গেল।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন। এর ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে এবং বাকি ৮০ শতাংশ পরিশোধিত তেল সিঙ্গাপুর, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের তথ্যমতে, এপ্রিলে দেশে ডিজেলের চাহিদা প্রায় ৪ লাখ টন, যার বিপরীতে সোয়া ৩ লাখ টন আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। একই বৈঠকে দেশের বৃহত্তম ভোলা ও বরিশাল সেতু প্রকল্পের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রায় ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুটি তেঁতুলিয়া নদীর ওপর নির্মিত হবে।

এছাড়া মেঘনা নদীর ওপর শরীয়তপুর ও চাঁদপুর সেতু নির্মাণের নীতিগত অনুমোদনেরও সুপারিশ করা হয়েছে।

এনএন/ ৮ এপ্রিল ২০২৬



Scroll to Top