
জুমার দিন মুসলমানদের কাছে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। সপ্তাহের এই দিনে জুমার নামাজ আদায়ের পাশাপাশি বিভিন্ন নফল ও নেক আমলের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করেন মুসল্লিরা।
গোসল করা, পরিচ্ছন্ন পোশাক পরা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, মসজিদে আগে পৌঁছানো এবং খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনার মতো আমলগুলোর পাশাপাশি জুমার দিনে একটি আমলের প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেটি হলো রাসুলুল্লাহ (স.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা।
হাদিসে জুমার দিনে দরুদ পাঠের বিষয়ে বিশেষভাবে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘তোমরা জুমার দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো। কেননা তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়।’ (সুনানে আবু দাউদ: ১০৪৭)
জুমার দিনে দরুদ পাঠের গুরুত্ব
জুমার দিনকে কেন্দ্র করে দরুদ পাঠের বিষয়ে আরও একটি হাদিসে নির্দেশনা রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘জুমার দিন তোমরা আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ: ১০৮৫)
হাদিসের এসব নির্দেশনা থেকে বোঝা যায়, জুমার দিনকে দরুদ পাঠের মাধ্যমে বিশেষভাবে ইবাদতে ব্যয় করার সুযোগ রয়েছে। তাই অন্যান্য আমলের পাশাপাশি এই আমলের জন্যও সময় রাখা যেতে পারে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই শুরু
ইসলামি হিসাবে সূর্যাস্তের পর নতুন দিন শুরু হয়। এ হিসেবে বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর থেকেই জুমার রাত শুরু হয়। ফলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার সূর্যাস্ত পর্যন্ত দরুদ পাঠ করা যায়। দরুদ পাঠের জন্য জুমার দিনে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা বেঁধে দেওয়া হয়নি। তাই প্রত্যেকে নিজের সামর্থ্য ও সুযোগ অনুযায়ী বেশি বেশি দরুদ পাঠ করতে পারেন।
একবার দরুদ পাঠে দশবার রহমত
দরুদ পাঠের ফজিলত শুধু জুমার দিনের জন্য নির্দিষ্ট নয়। যেকোনো সময় দরুদ পাঠ করা সওয়াবের আমল। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন।’ (সহিহ মুসলিম: ৪০৮) অর্থাৎ, জুমার দিনে বেশি বেশি দরুদ পাঠের পাশাপাশি অন্য দিনগুলোতেও নিয়মিত এই আমল করা যেতে পারে।
কোন দরুদ পড়বেন?
নামাজের শেষ বৈঠকে পাঠ করা দরুদে ইবরাহিম সহ হাদিসে বর্ণিত সহিহ দরুদ পড়া যায়। দরুদ পাঠের জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্থান বা সময়ের প্রয়োজন নেই। অবসর সময়ে কিংবা দৈনন্দিন কাজের ফাঁকেও এ আমল করা সম্ভব। তবে ইবাদতের ক্ষেত্রে ফরজ আমলকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। বিশেষ করে জুমার নামাজ ও খুতবার সময় দরুদ পাঠের কারণে খুতবা শোনায় যেন ব্যাঘাত না ঘটে, সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত।
জুমার দিনে আরও যেসব আমল করা যায়
দরুদ পাঠের পাশাপাশি জুমার দিনে গোসল করা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, আগে মসজিদে যাওয়া এবং মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা এসব আমল করা যায়। এ ছাড়া সূরা কাহফ তিলাওয়াত এবং বেশি বেশি দোয়া করারও সুযোগ রয়েছে।
জুমার দিন তাই একজন মুমিনের জন্য ইবাদত ও নেক আমল বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এর মধ্যে রাসুলুল্লাহ (স.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা হতে পারে দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল।
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…