‘১৩৩৩’ প্রেমের কবিতা। একদা সম্ভাব্য প্রেমিকা প্রেমিকের কাছে এসেছিল অমোঘ মুহূর্ত নিয়ে। সেই অনুভূতি পরবর্তী সময়ে আশাহত প্রেমিক হৃদয়ে গোপন আলোর রোশনাই করে রাখে বছরের পর বছর এবং সেই অনুভূতি ঘিরেই এই কবিতা।
‘প্রেম’ কবিতাটি প্রেম নিয়েই। শাশ্বত প্রেম, নর-নারীর প্রেম, চিরচেনা প্রেম, প্রেমকেই বলা, প্রেমের সাথে কথা বলা। প্রেমকে মহিমান্বিত করা নয়, প্রেম যে চিরন্তন তা–ই অনুধাবন করা।
‘পিপাসার গান’ প্রকৃতি নিয়ে লেখা। প্রকৃতির অনুভূতি কেমন হয়? সেটা যেন জানা হয়ে যায় এ কবিতায়।
‘পাখিরা’ অস্তিত্ববাদী কবিতা। জীবনের দর্শনদর্পণে রেখে দেখা যেন এ কবিতা।
‘শকুন’ কবিতা যুদ্ধের কদাকার দিককে ইঙ্গিত করে যায় প্রতীকীভাবে। যুদ্ধে যখন মানুষের বেঁচে থাকা, মানুষের যাপন অগুরুত্বপূর্ণ, বরং গুরুত্বপূর্ণ কেবল যুদ্ধ—তার এক স্থির চিত্র যেন এ কবিতা।
‘মৃত্যুর আগে’ কবিতায় কবি বলেন, ‘আমরা দেখেছি যারা বুনো হাঁস শিকারীর গুলির আঘাত/ এড়াতে উড়িয়া যায় দিগন্তের নম্র নীল জোৎস্নার ভিতরে।’ মৃত্যুর আগে এই পৃথিবী কী রূপময় ছিল! তারই বহিঃপ্রকাশ দেখি চিত্ররূপময়তায় এ কবিতায়।
‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’র শেষ কবিতা ‘স্বপ্নের হাতে’। কবিতাটি জীবনদর্শন আর প্রকৃতির নিবিড় স্পর্শে চুপচাপ এগিয়ে চলে শেষ হয় এবং তার সাথে পরিসমাপ্তি ঘটে ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’ কাব্যগ্রন্থের।
‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’র ‘শকুন’ কবিতাটি বাদে বাকি ১৬টি কবিতাই দীর্ঘ কবিতা। ভূমেন্দ্র গুহর স্মৃতিকথা থেকে জানা যায়, ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’ নিয়ে জীবনানন্দের একধরনের স্মৃতিময় মমতাস্পর্শ ছিল। ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’ নিয়ে জীবনানন্দ একদা বলেছিলেন, ‘ওখানে একটু বেশি অগোছালো হয়ে পড়তে হয়েছিল।’


