সাহিবজাদা ফারহানের সেঞ্চুরি ও ফখর জামানের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দুই শতাধিক রানের সংগ্রহ গড়েছিল পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫ রানে জয় পেলেও সমীকরণ মেলাতে পারেনি সালমান আলি আঘার দল। ফলে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন ভেঙ্গে থামতে হল তাদের। গ্রুপ-২ থেকে ইংল্যান্ডের পাশাপাশি সেমির টিকিট কেটেছে নিউজিল্যান্ড।
তিন ম্যাচের সবকটিতে জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে আগেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছিল ইংল্যান্ড। দ্বিতীয় দল হিসেবে দৌড়ে নিউজিল্যান্ডের পাশাপাশি টিকে ছিল পাকিস্তানও। কিউইদের ঝুলিতে ছিল ৩ পয়েন্ট। সেমিতে খেলতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বড় জয় তুলে নিতে হত শাহিন শাহ আফ্রিদিদের। রানরেটে কিউইদের টপকাতে লঙ্কানদের বিপক্ষে অন্তত ৬৪ রানে জিততে হত তাদের। তবে তা করতে পারেনি দলটি।
পাল্লেকেলেতে সুপার এইটের ম্যাচটিতে টসে হেরে আগে ব্যাটে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ২১২ রানের সংগ্রহ গড়েছিল পাকিস্তান। সেমিতে খেলতে হলে লঙ্কানদের ১৪৭ রানের মধ্যে আটকাতে হত। তবে স্বাগতিকদের ইনিংস থামে ৬ উইকেটে ২০৭ রানে। তাতেই বিদায় নিশ্চিত হয় পাকিস্তানের। আর সুপার এইটের তিন ম্যাচেই হার দেখেছে লঙ্কানরা।
আগে ব্যাটে নেমে পাকিস্তানকে উড়ন্ত শুরু এনে দেন সাহিবজাদা ফারহান ও ফখর জামান। উদ্বোধনীতে দুজনে মিলে ১৭৬ রান করেন। ৯ চার ও ৪ ছক্কায় ৪২ বলে ৮৪ রান করেন। উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর ধস নামে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপে। ২১০ রানের সংগ্রহ গড়ার পথে ৮ উইকেট হারায় তারা।
সাহিবজাদা ফারহান ৯ চার ও ৫ ছক্কায় ৬০ বলে ১০০ রান করেন। চলতি আসরে ফারহানের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি এটি। সেই সঙ্গে নতুন এক কীর্তিতে নাম লেখান ফারহান। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ রানের মালিক এখন তিনি, ৬ ম্যাচে ৩৮৩ রান করেছেন তিনি। আগের রেকর্ডটি ছিল বিরাট কোহলির। ২০১৪ আসরে ৩১৯ রান করেছিলেন তিনি। ফারহান আউটের পর পাকিস্তানের আর কোনো ব্যাটার ৮ রানের বেশি করতে পারেননি।
লঙ্কান বোলারদের মধ্যে দিলশান মাদুশঙ্কা ৩ উইকেট নেন। দাসুন শানাকা ২ এবং দুশমন্থ চামিরা এক উইকেট নেন।
রানতাড়ায় নেমে শুরুটা ভালো না হলেও পবন রত্নায়েকে ও দাসুন শানকা ঝড় তুলেছেন। ৪ চার ও ৩ ছক্কায় ৩৭ বলে ৫৮ রান করেন রত্নায়েকে। ২ চার ও ৮ ছক্কায় ৩১ বলে ৭১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন শানাকা। এছাড়া কামিল মিশারা ১৫ বলে ২৬ এবং চারিথ আশালাঙ্কা ১৮ বলে ২৫ রান করেন।
পাকিস্তান বোলারদের মধ্যে আবরার আহমেদ ৩ উইকেট নেন। শাহিন শাহ আফ্রিদি, নাসিম শাহ ও মোহাম্মদ নাওয়াজ নেন একটি করে উইকেট।




