জামিনের পর তিশা বললেন, ‘সস্তা নেগেটিভ মার্কেটিংয়ের অপকৌশল’ | চ্যানেল আই অনলাইন

শাড়ি নিয়ে দায়ের করা প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলায় আদালতে হাজির হয়ে জামিন পেয়েছেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে মামলাটির শুনানি শুরু হয়।

শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, একটি অনলাইন ফ্যাশন পেজ থেকে প্রায় ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি সংগ্রহ করেন তানজিন তিশা।

শাড়িটির প্রচারণা চালানো এবং মূল্য পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ করেন মামলার বাদী। এ ঘটনায় প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে গত ১২ জুলাই তানজিন তিশার বিরুদ্ধে সমন জারি করেন একই আদালত। তাকে ১৩ আগস্ট আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

বাদীপক্ষের দাবি, আইনি নোটিশ পাঠানোর পরও কোনো সাড়া না পাওয়ায় ২০২৫ সালের নভেম্বরে আদালতে মামলা করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি পাওয়ার কথা উল্লেখ থাকায় আদালত সমন জারি করেন।

তবে শুরু থেকেই অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে আসছিলেন তানজিন তিশা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দাবি করেছিলেন, শাড়িটি তাকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। তাই এর মূল্য পরিশোধের কোনো প্রশ্ন ছিল না বলেও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির হয়ে জামিন পাওয়ার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন তানজিন তিশা। সেখানে তিনি মামলাটিকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেন।

তিশা লেখেন, ‘সত্যের জয় সুনিশ্চিত, আইনের প্রতি আমি সদা শ্রদ্ধাশীল।’ আদালতে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় জামিন মঞ্জুর হওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে আদালত প্রাঙ্গণে দেখা একটি দৃশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই অভিনেত্রী। তার দাবি, যে ফেসবুক পেজের শাড়ি নিয়ে এত আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে, সেই ব্যবসার কথিত মালিক নিজে ‘কোর্ট ড্রেস’ পরে আদালতে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু মামলা করিয়েছেন অন্য একজনকে দিয়ে এবং নিজেকে আড়ালে রেখেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিশা।

তিশার দাবি, আদালত থেকে বের হওয়ার সময় ওই নারী সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান। শুরু থেকেই শাড়ি নিয়ে যার সঙ্গে তার কথা হয়েছে, তিনিই ওই ব্যবসার কথিত মালিক বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি। কেন ওই নারী নিজেকে আড়াল করতে চান, সেই প্রশ্নও তোলেন অভিনেত্রী।

পোস্টে তানজিন তিশা আরও দাবি করেন, যে শাড়িকে কেন্দ্র করে এত আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে, সেটি পরেই তিনি অনেক আগেই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ছবি প্রকাশ করেছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট পেজকেও যথাযথভাবে মেনশন করেছিলেন।

তার অভিযোগ, সবকিছু স্পষ্ট থাকার পরও একই বিষয় নিয়ে মামলা করা প্রমাণ করে এটি কোনো প্রকৃত আইনি বিরোধ ছিল না; বরং ‘নেগেটিভ মার্কেটিং’ ও প্রচার পাওয়ার একটি কৌশল।

Scroll to Top