জানাজায় জনতার মহাসমুদ্র

জানাজায় জনতার মহাসমুদ্র

একটি মঞ্চ বানিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কফিন রাখা হয়েছিল মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর পশ্চিম প্রান্তে। এর পেছনে মিরপুর রোড। কফিন সামনে রেখে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা, ভেতরের দুটি মাঠ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে পুরো মানিক মিয়া অ্যাভিনিউজুড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন শোকার্ত মানুষ। একপর্যায়ে জানাজায় আসা মানুষের বিস্তৃতি ছড়িয়ে যায় কফিনের পশ্চিম পাশে মিরপুর রোডের ধানমন্ডির ২৭ নম্বর সড়কে, লালমাটিয়া মাঠ, আসাদ গেট থেকে মোহাম্মদপুর টাউন হল, আগারগাঁও মেট্রোস্টেশন থেকে শ্যামলী পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় শুধু মানুষ আর মানুষ। পূর্ব পাশে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ হয়ে বিজয় সরণি, আগারগাঁও, খামারবাড়ি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর, শাহবাগ পর্যন্ত বিস্তৃত সড়কগুলোতে কোথাও ফাঁকা জায়গা চোখে পড়েনি। আরেক দিকে তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ছাড়িয়ে যায়।

রাস্তায়, ফুটপাতে, বিভাজকের পাশে, বিভিন্ন ভবনের ছাদে, ওভারব্রিজে, মেট্রোস্টেশনে—যে যেখানে পেরেছেন দাঁড়িয়ে জানাজায় শরিক হওয়ার চেষ্টা করেছেন।

জানাজা অংশ নেওয়া এই লাখ লাখ মানুষের সবাই বিএনপির নেতা-কর্মী নন। এঁদের মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশাসহ অনেক সাধারণ মানুষ অংশ নেন। অনেকে দূরদূরান্ত থেকে পায়ে হেঁটে এসেছেন; কেউ অজু সেরে দাঁড়িয়ে ছিলেন খোলা রাস্তায়, কেউ চোখের সামনে কফিন দেখার অপেক্ষায়। এঁদের কেউ কেউ কয়েক কিলোমিটার পথ হেঁটে জানাজায় শরিক হন। হাঁটতে হাঁটতেই কথা হয় বেসরকারি চাকরিজীবী আমিরুল ইসলামের সঙ্গে। শাহবাগ এলাকা থেকে হাঁটা শুরু করেছেন তিনি। আমিরুল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি রাজনীতি করি না। কিন্তু একজন নেত্রী দেশের মানুষের জন্য জীবনে এত অত্যাচার সহ্য করেছেন। তাঁর জানাজায় অংশ নিতে কয়েক কিলোমিটার হাঁটব, এতে আর কষ্ট কী?’

Scroll to Top