ছাত্রদল নেতার বাড়িতে গুলির অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে | চ্যানেল আই অনলাইন

ছাত্রদল নেতার বাড়িতে গুলির অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে | চ্যানেল আই অনলাইন

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কাঞ্চনা এলাকায় রাতের আঁধারে ছাত্রদলের এক নেতার বাড়িতে গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই ছাত্রদল নেতার অভিযোগ, ইউনিয়ন জামায়াতের আমিরের নেতৃত্বে গুলি ছোড়া হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার ৩১ মার্চ দিবাগত রাত সোয়া একটার দিকে গুলি করার ঘটনাটি ঘটেছে।

ওই ছাত্রদল নেতার নাম মো. মহসিন। তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলার কাঞ্চনা ইউনিয়নের কবির বাড়ি এলাকার বাসিন্দা। তিনি জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। তাকে না পেয়ে স্থানীয় দুই ছাত্রদল নেতাকে মারধর করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা–কর্মীরা।

মো. মহসিন সাংবাদিকদের বলেন, কাঞ্চনা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবু তাহেরের নেতৃত্বে জামায়াত–শিবিরের কর্মীরা আমার বাড়ি লক্ষ্য করে দফায় দফায় গুলি চালান। আমাকে না পেয়ে তারা আমার সহযোগীদের ওপর হামলা করেন। তাদের হামলায় ছাত্রদলের একটি ওয়ার্ড শাখার সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ রাকিব ও ইউনিয়ন শাখার সাবেক সভাপতি মো. শফিক আহত হয়েছেন। এর মধ্যে রাকিব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং মহসিন এক পল্লিচিকিৎসকের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

হামলার কারণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মো. মহসিন বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাদের ইউনিয়নে জামায়াতের প্রার্থী প্রত্যাশিত ভোট পাননি। এতে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে নির্বাচনের পর থেকেই স্থানীয় বিএনপি নেতা–কর্মীদের বাড়িঘর ছেড়ে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছেন।

তবে মো. মহসিনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাঞ্চনা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবু তাহের। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আগামী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে দল আমাকে প্রার্থী করতে পারে, এমন সম্ভাবনা থেকেই বিএনপির একটি অংশের নেতা–কর্মীরা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট অভিযোগ করছেন। অভিযোগের প্রমাণ দিতে পারলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব। তারা নিজেরাই বাজি ফাটিয়ে জামায়াত–শিবিরের নেতা–কর্মীদের ওপর গুলির দায় চাপাচ্ছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ফরহাদ সাংবাদিকদের বলেন, মধ্যরাতে বিকট শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এটা গুলি বা আতশবাজির শব্দ হতে পারে। তবে কারা, কী কারণে হামলা করেছে, তা নিশ্চিত নয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা–কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সে কারণেও হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

জানতে চাইলে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হক সাংবাদিকদের বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Scroll to Top