এবারের চিত্র একেবারেই আলাদা। এবার মূলধারার ছাত্রসংগঠন সেভাবে কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি। আন্দোলন ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। তবে সংস্কৃতিযজ্ঞে লিপ্ত রাজনীতির অভিলাষী একদল ছাত্র এ আন্দোলনে নেপথ্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাদের সফলতার পেছনে নানা কারণ ছিল। তাদের ভাষা তরুণদের আকর্ষণ করেছে, বয়ান নানা স্তর ও গোষ্ঠীর মানুষকে যুক্ত করেছে, কৌশল রাষ্ট্রের শক্তি ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে বাঁচিয়ে রেখেছে।
যেকোনো অভ্যুত্থানেরই দুটি পর্ব থাকে। একটি পতনের; আরেকটি পত্তনের। প্রথমটি পুরোনোর বিদায়, পরেরটি নতুনের অভ্যুদয়। প্রথমটাই অসম্ভব কঠিন, দ্বিতীয়টা আরও। নতুনের অভ্যুদয় কীভাবে কতটা হবে কিংবা আদৌ হবে কি না, সেটা নির্ভর করবে রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হিসেবে যে জনতার আবির্ভাব ঘটল, ভবিষ্যতে তা কেমন পরিপক্বতা দেখায়, তার ওপর।
তবে পত্তন বা গড়ে তোলার পর্বটি যেদিকেই গড়িয়ে যাক না কেন, ২০২৪ সালের এই আন্দোলনে পতনের পর্বটি যেভাবে সফল হলো, তা নিঃসন্দেহে ইতিহাসের অংশ হয়ে পড়েছে।
ছাত্রছাত্রীরা এই সফলতার বড় ভাগীদার। তাদের টুপি–খোলা অভিবাদন।
ঢাকা, ৩০ অক্টোবর ২০২৪
* সাজ্জাদ শরিফ : কবি; নির্বাহী সম্পাদক, প্রথম আলো



