মিরপুর টেস্ট

মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৩ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বড় বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। নাঈম হাসান ও জাকের আলী অনিকের ব্যাটে সেই ধাক্কা কিছুটা সামাল দিয়েছে স্বাগতিকরা। তৃতীয় দিন শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের লিড সবে ১০৬ রান। হাতে এখন কেবল ৪ উইকেট। ম্যাচে জয়ের সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখতে শেষ ইনিংসে যতটা সম্ভব বড় সংগ্রহ গড়তে চায় বাংলাদেশ।
দিনের শুরুতে বোলিংয়ে উজ্জ্বল ছিলেন নাঈম। তুলে নেন ৪ উইকেট। এরপর কঠিন সময়ে ব্যাট হাতেও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। ১৮ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন এ অফস্পিনার। জাকের আলীকে নিয়ে সপ্তম উইকেটে তার ২৬ রানের জুটি বাংলাদেশকে আরও বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছে।
বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাট হাতে অবদান রাখার বিষয়ে নাঈমের ব্যাখ্যা অবশ্য বেশ সহজ। দলের প্রয়োজনে দায়িত্ব পালন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে নাঈম বললেন, ‘আসলে বল যখন হাতে নেই তখন বোলার, যখন ব্যাট হাতে নেই, তখন ব্যাটার। সবারই ব্যাটিং করতে হয়। দলের প্রয়োজনে যেটা করা দরকার, করার চেষ্টা করি।’
সাম্প্রতিক সময়ে ভালো পারফরম্যান্স করেও পর্যাপ্ত বোলিংয়ের সুযোগ না পাওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। ঢাকা টেস্টেও অন্য দুই স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলামের তুলনায় অনেক কম ওভার করেছেন নাঈম। এ নিয়ে কোন আক্ষেপ প্রকাশ করেননি। বরং অধিনায়কের সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থার কথা জানিয়েছেন।
‘দলের জন্য যেটা ভালো, অধিনায়ক সেটাই করেন। মিরাজ ভাই আর তাইজুল ভাইয়ের উপর তাদের (টিম ম্যানেজমেন্টের) বিশ্বাসটা বেশি। আমি যদি এরকম পারফর্ম করতে থাকি তাহলে আমাকেও বেশি বল করাবে। বিষয়টা আমার হাতে নেই। আমাকে যখন সুযোগ দেয়, চেষ্টা করি শতভাগ পরিশ্রম করতে এবং দলের জন্য যেটা সবচেয়ে ভালো হয়, সেটা করতে।’
প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পাওয়ার পর বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল দ্বিতীয় ইনিংসে বড় সংগ্রহ গড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে কঠিন লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয়া। কিন্তু ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতে হোঁচট খায় স্বাগতিকরা। মাত্র ৩৫ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দল। এরপর ৫৩ রানে ৬ উইকেট। সেই পরিস্থিতিতে নাঈম ও জাকেরের প্রতিরোধ কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে বাংলাদেশকে।
ব্যাটিং বিপর্যয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নাঈম বললেন, ‘প্রতিদিন সবাই ভালো খেলে না। এবার সুযোগটা আমাদের কাছে আসছে। যদি আমরা সেটা কাজে লাগাতে পারি, তাহলে দল ব্যাক করতে পারব। আমি আর জাকের ভাই চেষ্টা করছি সেটাই। শান্ত ভাইয়েরা যখন ব্যাটিং করতে গিয়েছিলেন, তখন আন্ডার লাইটে বল দুই রকম হচ্ছিল। সোজাও যাচ্ছিল, আবার ঘুরছিল। হয়তো ওই জায়গায় আরেকটু ভালো ব্যাটিং করার দরকার ছিল। সেটা হয়নি। আমরা ব্যাক করতে পারলে সব ঠিক হয়ে যাবে।’
দ্রুত পাঁচ উইকেট হারানোর পর ড্রেসিংরুমে স্বাভাবিকভাবে কিছুটা চাপ তৈরি হওয়ার কথা। নাঈম জানালেন, সতীর্থদের মধ্যে হতাশার চেয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর বিশ্বাসই বেশি ছিল। বলেছেন, ‘ড্রেসিংরুমে সবাই নরমাল ছিল। কারণ আমাদের বিশ্বাস আছে, কেউ না কেউ খেলাটাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আগেও হয়েছে এমন।’
যে উইকেটে প্রতিষ্ঠিত ব্যাটারদের রান তুলতে সংগ্রাম করতে হয়েছে, সেখানে নাঈম ব্যাটিংয়ে টিকে থাকার বিষয়টিও জানিয়েছেন। বলেছেন, ‘তেমন কোন পরিকল্পনা ছিল না। চেষ্টা ছিল, যেরকম বল আসবে সেরকম রিয়্যাক্ট করার। আর এই উইকেটে রান করার জন্যই খেলতে হবে। কারণ বল টার্ন করছে, রান আসতে থাকলে বোলাররা চাপে থাকবে।’
চতুর্থ দিনে ব্যাট হাতে আরও বড় অবদান রাখতে চান নাঈম। জাকেরের সঙ্গে যতটা সম্ভব লম্বা জুটি গড়াই এখন তার লক্ষ্য। ব্যক্তিগত কোন মাইলফলকের চেয়ে দলের সংগ্রহ বাড়ানোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। বলেছেন, ‘চেষ্টা করব যতবেশি রান করতে পারি। আমি আর জাকের যদি লম্বা খেলতে পারি, তাহলে যতবেশি রান করব, আমাদের দলের জন্য ভালো। ২০০ রান হলে খুবই ভালো হবে। চেষ্টা থাকবে আরও বেশি করার।’
ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনা নিয়েও আশাবাদী নাঈম। তার বিশ্বাস, হাতে থাকা উইকেট কাজে লাগিয়ে বড় সংগ্রহ গড়তে পারলে বাংলাদেশের সামনে জয়ের পথ তৈরি হবে। তবে নির্দিষ্ট কোন লক্ষ্য ঠিক করে এগোতে চান না। বলেছেন, ‘আল্লাহ চাইলে সব সম্ভব। আমাদের উইকেট আছে, চেষ্টা করব যতবেশি রান করতে পারি। কোন লক্ষ্য সেট না করি। যতবেশি রান করতে পারি, তত ভালো। বিশ্বাস রাখুন, জাকের ভাইকে নিয়ে আমি যাতে বড় ইনিংস খেলতে পারি।’
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…

