সাইফুল ইসলাম : মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন মো. মিরন মিয়া। তিনি ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় ঢাকার খিলক্ষেত থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
মিরন মিয়া ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী ইউনিয়নের কুন্ডরাবাড়ী এলাকার মৃত হাফিজুর রহমানের ছেলে। স্থানীয়ভাবে তিনি চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচার-প্রচারণা ও জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ঢাকার খিলক্ষেত থানার কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এ সময় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এতে শাহ আলম নামে এক আন্দোলনকারী আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১৩ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় শাহ আলমের চাচাতো ভাই মো. ইয়াকুব আলী বাদী হয়ে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যা মামলা করেন।
মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ১৮ জনকে নির্দেশদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৩৬১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে মিরন মিয়াকে ২৮ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মিরন মিয়া এজাহারভুক্ত আসামি হয়েও প্রকাশ্যে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচার-প্রচারণা চালানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতারা।
মানিকগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক ওমর ফারুক বলেন, ‘মিরন মিয়া জুলাই আন্দোলনের হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হয়েও কীভাবে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন? প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’
তিনি আরও বলেন, ‘মিরন মিয়াসহ মামলার অন্য আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় না আনা হলে জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা কর্মসূচি দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।’
তবে মামলায় নিজের নাম আসার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন মিরন মিয়া। তিনি বলেন, ‘আমার প্রতিপক্ষরা শত্রুতা করে ওই মামলায় আমার নাম ঢুকিয়েছে। আমি ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। প্রায় আট মাস আগে আমি মামলার কপি পেয়েছি। আমি জড়িত থাকলে এতদিনে প্রশাসন আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিত। আমার সুনাম ক্ষুণ্ন করতেই প্রতিপক্ষরা আমাকে মামলায় ফাঁসিয়েছে।’
মামলার বিষয়ে জানতে ঢাকার খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সরকারি মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। পরে পরিদর্শক (অপারেশন) জানান, এই মামলা খিলক্ষেত থানায় রুজু হয়নি।
এ বিষয়ে ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মহব্বত কবীর বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট থানা থেকে আমাদের থানায় কোনো রিকুইজিশন বা কাগজপত্র এসেছে কি না, তা খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। এরপর সে অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া



