বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক ব্যানার-পোস্টার-লিফলেটে বানান ভুলের সংস্কৃতি কারো চোখ এড়ায় না। তাই বলে ভাষার মাসের নামের বানানও ভুল করবে! তাও একুশে বইমেলা-২০২৪ উপলক্ষে টাঙানো ফেস্টুনে!
হ্যাঁ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সৌজন্যে পুরো শহরজুড়ে টাঙানো অমর একুশে বইমেলার ফেস্টুনে ফেব্রুয়ারি মাসের বানান ভুল রয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, সেই ফেস্টুনে আরো দুটি দেখা গেছে ভুল।
চট্টগ্রাম নগরীর ওয়াসা, দুই নম্বর গেট, মুরাদপুর, বহদ্দারহাটসহ নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও মোড়ে চসিকের ভুল বানান-সংবলিত ফেস্টুন টাঙিয়ে রাখতে দেখা যায়। ফেস্টুনগুলোতে চোখ বুলিয়ে দেখা মেলে, বাংলা একাডেমি প্রণীত বিদেশি শব্দের বানানরীতি অনুসরণ না করে ‘ফেব্রুয়ারি’তে হ্রস্ব-ই-কারের জায়গায় দীর্ঘ-ঈ বানানে ‘ফেব্রুয়ারী’ লেখা হয়েছে।
তাছাড়া, ‘চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদ’-এর বদলে লেখা হয়েছে ‘চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশনা পরিষদ’। যতিচিহ্নের ব্যবহারেও ভুলের দেখা মিলেছে। ‘তারিখ’ শব্দটির পর কোনো স্পেস না দিয়ে কোলন (:) ব্যবহার করা হলেও চতুর্থ সারিতে ‘স্থান’ শব্দের পর দুইটি স্পেস দিয়ে কোলন (:) ব্যবহার করা হয়েছে।
অথচ, আজ পাঁচদিন ধরে নগরীর বিভিন্ন জায়গায় এসব ফেস্টুন টাঙানো থাকলেও চোখে পড়েনি আয়োজক কমিটির। এমন ভুলকে নিছক ভুল না-বলে বাংলা ভাষা, ভাষার মাস ও শহীদদের প্রতি অসম্মান ও অপমান করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ‘চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদ’।
সিটি করপোরেশনের এই বানান ভুলের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন, পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আলী প্রয়াস। তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘প্রতিবছরই সিটি কর্পোরেশন এ ভুলগুলো করে। গতবছরও জঘন্যতম এক ভুল করেছিল। এক কবির লেখা আরেকজনের নামে উদ্ধৃতি দিয়েছিল। পরপর তিনবছর ধরে ভুল করছে তারা। আমরা বলেছিলাম, এসব বিষয়ে দায়িত্বশীলদের কাউকে দেখিয়ে সতর্কতার সঙ্গে যেন সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু, সিটি করপোরেশনের মতো এত বড় একটি প্রতিষ্ঠান, এত বড় বাজেটের একটা আয়োজনে এবারও এই ভুলগুলো করেছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। এটা তাদের চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয়। বিশেষ করে ভাষার মাসে, বইমেলার মতো আয়োজনে। আমরা প্রকাশক পরিষদের পক্ষ থেকে এসব ভুলের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আজ রাতের সভায় সিটি করপোরেশনকে এসব সংশোধন করার জন্য বলবো।’
চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদের সভাপতি মো. সাহাবুদ্দীন হাসান বাবুও বললেন একই কথা।
তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, এটা খুবই দুঃখজনক! সিটি করপোরেশনকে আমরা এগুলো সংশোধনের জন্য অবশ্যই বলবো। এসব ভুল চট্টগ্রামের মান-মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে। আর এসব বিষয়ে ভালো করে দেখার জন্য সিটি কর্পোরেশনকে বেশ প্রতিবাদের ভাষায় বলেছিলাম। কিন্তু তারা তবুও সচেতন হয়নি। এমনটা নিন্দনীয় এবং বর্জনীয়। বইমেলার সৌন্দর্য রক্ষায় তাদের যথেষ্ট সচেতন ও সতর্ক হওয়া জরুরি।
ভাষার মাসে বইমেলার আয়োজনে এমন ভুলের বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও বইমেলার আহ্বায়ক নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘যদি বানান ভুল হয়ে থাকে, তাহলে আমরা এগুলো পরিবর্তন করবো।’
উল্লেখ্য, শুক্রবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে চট্টগ্রাম নগরীর সিআরবি শিরীষতলা প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে অমর একুশে বইমেলা। ২৩ দিনব্যাপী বইমেলাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। এবারের বইমেলাতে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ সারাদেশের ৯২টি প্রকাশনা সংস্থার ১৫৫টি স্টল রয়েছে।
তাছাড়া এই বইমেলা প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ছুটির দিনে মেলা শুরু হবে সকাল ১০টা থেকে। ২ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে বইমেলার সমাপনী। চসিকের আয়োজনে ২০১৯ সাল থেকে সম্মিলিতভাবে চট্টগ্রামে ‘অমর একুশে বইমেলা’র আয়োজন হয়ে আসছে।