চাঁদ প্রদক্ষিণ শেষে পৃথিবীর পথে আর্টেমিস–২ | চ্যানেল আই অনলাইন

চাঁদ প্রদক্ষিণ শেষে পৃথিবীর পথে আর্টেমিস–২ | চ্যানেল আই অনলাইন

চাঁদের কাছাকাছি ঐতিহাসিক উড্ডয়ন শেষ করে পৃথিবীর পথে ফিরতে শুরু করেছেন আর্টেমিস–২ মিশনের চার নভোচারী। পৃথিবী থেকে মানুষের সবচেয়ে দূরবর্তী ভ্রমণের নতুন রেকর্ড গড়ে তারা ভেঙেছেন ১৯৭০ সালে অ্যাপোলো–১৩ মিশনের সময় স্থাপিত দূরত্বের রেকর্ড।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে, উড্ডয়নপর্ব সফলভাবে শেষ হওয়ার পর ওরায়ন মহাকাশযান এখন পৃথিবীমুখী পথে রয়েছে। এই মিশনে অংশ নিয়েছেন রিড উইসম্যান, ভিক্টর গ্লোভার ও ক্রিস্টিনা কক। তাদের সঙ্গে ছিলেন কানাডার মহাকাশ সংস্থার নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন।

চাঁদের পেছন দিক অতিক্রমের সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার একটি পর্ব ছিল। সেই সময়ই নভোচারীরা ‘আর্থরাইজ’ বা চাঁদের দিগন্তে পৃথিবীর উদয়ের দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন। পাশাপাশি তারা চাঁদের যে অংশ পৃথিবী থেকে কখনো দেখা যায় না, সেই দূরবর্তী পৃষ্ঠের বেশ কিছু ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অঞ্চলের কিছু অংশ আগে কখনো মানুষের চোখে দেখা হয়নি।

মিশনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত ছিল পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা। ওরায়ন মহাকাশযানের অবস্থান থেকে সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবীর এক সরলরেখায় অবস্থানের বিরল দৃশ্য উপভোগ করেন নভোচারীরা। মহাকাশ গবেষকদের মতে, এ ধরনের অবস্থান ভবিষ্যৎ গভীর মহাকাশ অভিযানের জন্য মূল্যবান পর্যবেক্ষণের তথ্য দেবে।

চাঁদ প্রদক্ষিণ শেষে নভোচারীদের সঙ্গে কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি তাদের উদ্দেশে বলেন, “আজ তোমরা ইতিহাস সৃষ্টি করেছ।”

আর্টেমিস–২ হলো চাঁদমুখী মানব অভিযানের নতুন অধ্যায়। এটি ভবিষ্যতে চাঁদের কক্ষপথে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান ও অবতরণ মিশনের প্রস্তুতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মিশনটি সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরলে, অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর মানুষকে আবার চাঁদের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার কর্মসূচি আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

Scroll to Top