গত বছর ৫ আগস্টের পর চাঁদপুরের নৌ সীমানা মেঘনায় চুরি করে বালি উত্তোলন করলেও প্রায় গত একমাস প্রকাশ্যে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। এর কারণে মতলব উত্তরের সেচ প্রকল্প বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মেঘনার পশ্চিম পাড়ের মানুষের জনজীবন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বালি উত্তোলন নিয়ে সীমানা জটিলতা রয়েছে। তবে খুব শিগগিরই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিগত সময়ে চাঁদপুরের মতলব উত্তরের ষাটনল থেকে শুরু করে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত মেঘনার বিশাল এলাকা জুড়ে চলতো অবৈধ বালি উত্তোলন। মেঘনায় শত শত ড্রেজার দিয়ে প্রকাশ্যে বালি তোলা হলেও প্রশাসনিক তৎপরতায় তা বন্ধ হয়েছিল। তবে বর্তমান অন্তবর্তী সরকারের সময়ে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বালি মাফিয়ারা।
চাঁদপুর সদরের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও মতলব উত্তরের ষাটনল, দশানী, নাসিরারচর, বোরচর, লালপুর, খাসকান্দিও নাসিরাকান্দিসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে প্রতিদিন মধ্য রাত থেকে ভোর পর্যন্ত চলছে অবৈধ বালি উত্তোলন।
সন্ধ্যা নামার আগেই ড্রেজারগুলো নদীতে অবস্থান নেয়, আর গভীর রাত থেকে শুরু হয় নির্বিচারে বালি উত্তোলন। এর ফলে মেঘনা–ধনাগোদা সেচ প্রকল্প বেড়ীবাঁধ ভাঙনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে বাঁধ সংলগ্ন গ্রামগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
গত ১৯ আগষ্ট বাাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি ব্যারিস্টার ওবাইদুর রহমান টিপু জেলা প্রশাসনকে মেঘনার অবৈধ বালি উত্তোলন বন্ধে লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেন। এছাড়াও সম্প্রতি মতলব উত্তরের ষাটনলে মেঘনায় অবৈধ বালি উত্তোলনের প্রতিবাদে মানববন্ধন করা হয়েছে।
চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মহসীন উদ্দিন বলেন, চাঁদপুর নৌ সীমানায় বালি উত্তোলনের অনুমোদন নেই। তবে সম্প্রতি মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসন বালি উত্তোলনের অনুমতি দেয়ায়, তারা চাঁদপুরের সীমানায় প্রবেশ করছে। সীমানা জটিলতা নিয়ে মুন্সীগঞ্জের সাথে সমন্বয় করে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন কাজ করছে বলে জানান তিনি।
মতলব উত্তরের নৌ সীমানায় স্বল্প সংখ্যক নৌ-পুলিশ সদস্য থাকলেও বিশাল এ জল সীমায় দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা নজরদারি রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ড্রেজার ব্যবসায়ীরা সুযোগ বুঝে নির্দ্বিধায় বালি তুলে নিচ্ছে। প্রসঙ্গত মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক বালি উত্তোলনের অনুমতি দিলেও চাঁদপুরের সাথে সমন্বয় না করার কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। আর এ সুযোগে ড্রেজার ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করে যাচ্ছে বলে জানা যায়।